একই জমিতে ফসল চাষ আর সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, এই অ্যাগ্রিভোলটাইকস প্রযুক্তির জন্য শিগগির আলাদা কর্মসূচি চালু করবে ভারত, কৃষকের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প পিএম-কুসুমের পরের ধাপে। নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে সপ্তম অ্যাগ্রিভোলটাইকস বিশ্ব সম্মেলনে এ কথা বলেন দেশটির নবায়নযোগ্য জ্বালানিমন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী। বৈশ্বিক দক্ষিণে এই প্রথম সম্মেলনটি হচ্ছে।
কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, নীতিটি এমন হতে হবে যাতে ভারতের ৮৫ শতাংশের বেশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক ফসলের উৎপাদন না হারিয়ে সৌরবিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারেন। প্যানেলের উচ্চতা, খুঁটির মধ্যে দূরত্ব আর চাষের জায়গা এমন রাখতে হবে যাতে কৃষক স্বচ্ছন্দে চাষ করতে এবং দরকারে ফসল বদলাতে পারেন; মাটির ক্ষয় ঠেকাতে পানি নিষ্কাশন ও বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থাও লাগবে।
নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ক্রয়, গ্রিড সংযোগ আর স্বচ্ছ ও সময়মতো অর্থ পরিশোধের দাবিও তোলেন চৌহান; কৃষক উৎপাদক সংগঠনকে যুক্ত করা এবং গ্রামের তরুণ ও নারীদের যন্ত্র চালানো ও মেরামতের প্রশিক্ষণের কথাও বলেন। কোনো কোম্পানি প্রকল্প ফেলে গেলে বা চুক্তি শেষে প্যানেল সরাতে হলে কৃষকের ঘাড়ে যেন আর্থিক বা অন্য দায় না পড়ে, সে সুরক্ষা চান তিনি।
জোশী জানান, দ্য এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের (টেরি) এক গবেষণায় ভারতের ১১ কোটি ৬০ লাখ হেক্টর কৃষিজমির মধ্যে ৪ কোটি ৭৫ লাখ হেক্টর অ্যাগ্রিভোলটাইকসের জন্য কারিগরিভাবে উপযোগী পাওয়া গেছে, যার প্রায় অর্ধেক মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, অন্ধ্রপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক ও উত্তরপ্রদেশে। তাঁর হিসাবে, এর মাত্র ১০ শতাংশে বসালেই ২০৫০ সাল পর্যন্ত দেশের প্রত্যাশিত বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো যায়; গবেষণা অনুযায়ী ফলনও ১০ থেকে ২০ শতাংশ বাড়তে পারে, স্থানীয়ভাবে প্রায় ৩ লাখ ৩২ হাজার পূর্ণকালীন কাজ তৈরি হতে পারে। পিএম-কুসুমে এরই মধ্যে ৩০ লাখ সেচপাম্প সৌরবিদ্যুতে চলছে, তাতে কৃষক দিনের বেলায় সেচ দিতে পারছেন।
পাওয়ারিং দ্য গ্লোবাল সাউথ প্রতিপাদ্যে সম্মেলনটির আয়োজক ভারতের নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়, সঙ্গে জার্মানির পরিবেশ মন্ত্রণালয়; মাঠপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারিগরি উপকরণও সেখানে উন্মোচন করা হয়। প্রতিবেদনটি করেছেন অজিত সিং।
ছবি: UC Davis College of Engineering / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Rural Voice





মন্তব্য
(০)