ফসফরাস সারের দাম চড়া থাকায় ভুট্টাচাষিদের জন্য সবচেয়ে লাভজনক পথ হলো যে জমিতে সার দিলে ফলন বাড়ার সম্ভাবনা বেশি সেখানে ফসফরাস দেওয়া, আর যেখানে মাটিতে আগে থেকেই যথেষ্ট আছে সেখানে কমানো। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নেব্রাস্কা-লিংকন (University of Nebraska-Lincoln)-এর গবেষণা এ কথা বলছে।
ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি), মনো-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (এমএপি) এবং তরল ১০-৩৪-০ স্টার্টার সারের দাম এখনো গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। নাইট্রোজেনের পর ভুট্টার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি ফসফরাস, তবে এর মূল্য নির্ভর করে মাটিতে আগে থেকে কতটা আছে তার ওপর। তাই নেব্রাস্কা এক্সটেনশন প্রতি তিন থেকে পাঁচ বছরে মাটি পরীক্ষার পরামর্শ দেয়।
নেব্রাস্কার কনকর্ডের কাছে ১৬ বছর ধরে চলা এক গবেষণায় ফসফরাস ব্যবস্থাপনার কয়েকটি পদ্ধতি তুলনা করা হয়। ফসফরাস দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করলে মাটির উর্বরতা কমে এবং সময়ের সঙ্গে ফলনও কমে যায়। আবার মাটিতে ফসফরাসের মাত্রা খুব বেশি রাখতে অনেক বেশি সার লেগেছে, কিন্তু মাঝারি মাত্রার তুলনায় ফলন ধারাবাহিকভাবে বাড়েনি। গাছ বাড়তি ফসফরাস শুষে নিয়েছে, অথচ ফলন বাড়েনি; গবেষকেরা একে বলেন বিলাসী ফসফরাস গ্রহণ।
সারে বিনিয়োগের সবচেয়ে ভালো ফেরত এসেছে ফসল তোলার সময় যতটা ফসফরাস জমি থেকে চলে যায় ঠিক ততটা দিলে। তাই সংকট-মাত্রার নিচে থাকা জমিতে সম্ভাব্য অপসারণ ধরে সারের মাত্রা ঠিক করার সুপারিশ বহাল আছে। যেখানে মাত্রা যথেষ্ট, সেখানে সার কমিয়ে নজর রাখা যায়; আর যেখানে মাত্রা বেশি, দাম চড়া থাকার সময়ে সার দেওয়া পিছিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
সার কোথায় দেওয়া হচ্ছে সেটাও জরুরি। কম ফসফরাসের মাটিতে বা যেখানে শুরুতে পুষ্টি সহজে মেলে না, সেখানে স্টার্টার ও সারিতে দেওয়া সার সবচেয়ে কার্যকর। ভেরিয়েবল-রেট প্রযুক্তি জমির যে অংশে দরকার সেখানেই সার পৌঁছে দিতে পারে। যে জমিতে আগে গোবর বা জৈব সার দেওয়া হয়েছে, সেখানে আগে থেকেই বড় মজুত থাকতে পারে।
গবেষকদের উপসংহার দুই দিকেই প্রযোজ্য: মাটির ফসফরাস বেশি কমতে দিলে ফলনের ঝুঁকি বাড়ে, আবার মাত্রাতিরিক্ত রাখলে খরচ বাড়ে কিন্তু ফলনে উল্লেখযোগ্য সুবিধা মেলে না।
ছবি: Lynn Betts / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: Farms.com





মন্তব্য
(০)