মাটি কতটা সুস্থ, তা জানতে কৃষকের হাতে দামি যন্ত্র না থাকলেও চলে। একটি বেলচা, এক বালতি পানি আর একটি জালি থাকলেই মাঠের মাটির কণা কতটা জোট বেঁধে থাকে, তা দেখা যায়। কানাডার ম্যানিটোবা প্রদেশের কৃষি বিভাগ ম্যানিটোবা এগ্রিকালচারের (Manitoba Agriculture) মৃত্তিকা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মেগান ওয়েস্টফাল (Megan Westphal) গত গ্রীষ্মে কারম্যানে (Carman) ক্রপ ডায়াগনস্টিক স্কুলে কৃষকদের এই পরীক্ষার কথা বলেন। খবরটি জানিয়েছেন ম্যানিটোবা কো-অপারেটরের গ্রেগ বার্গ (Greg Berg)।
কোন মাটিকে সুস্থ বলা হবে, তার মাপকাঠির তালিকা লম্বা। তবে ওয়েস্টফাল কৃষকদের কয়েকটি বিষয়ে নজর দিতে বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সয়েল হেলথ ইনস্টিটিউট (Soil Health Institute) মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষার পদ্ধতি একই মানে আনার কাজ করছে। সেই কাজের সূত্র ধরে তিনি তিনটি বিষয়কে প্রধান বলেছেন: মাটির জৈব কার্বন, কার্বন খনিজকরণের সম্ভাবনা এবং মাটির কণার জোটের স্থায়িত্ব, যাকে বলা হয় অ্যাগ্রিগেট স্ট্যাবিলিটি।
নমুনা কখন নেওয়া হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। মাটি খুব ঠান্ডা, খুব শুকনো বা সদ্য নাড়াচাড়া হলে অণুজীবের কাজ কমে যায়, তাতে ফল ভুল আসতে পারে। ওয়েস্টফালের পরামর্শ, ভারী বৃষ্টি, বীজ বপন বা চাষের মতো বড় কোনো ঘটনার পর মোটামুটি দুই থেকে চার সপ্তাহ অপেক্ষা করা উচিত। এ বছর গ্রীষ্মের শুরুতে দক্ষিণ ম্যানিটোবায় ভারী বৃষ্টির সময় ঠিক এমন অবস্থাই হয়েছিল।
এমন বৃষ্টিতে মাটির ওপরের স্তরের দানা ভেঙে আলাদা আলাদা কণায় পরিণত হয়, যা পরে বাতাস ও পানিতে সহজে ক্ষয়ে যায়। মাটি পানিতে ভিজে টইটম্বুর হলে বা মাঠে পানি জমে থাকলে ওপরে শক্ত আস্তর পড়ে, তাতে চারা ঠিকমতো গজায় না। ভাঙা কণা আবার বসে যাওয়ার সময় মাটির ভেতরের ছিদ্রগুলো বন্ধ করে দিতে পারে, ফলে পরে পানি মাটিতে ঢুকতে সমস্যা হয়। ওয়েস্টফাল বলেন, মাটির স্বাস্থ্যের নিয়ম মেনে জৈব পদার্থ বাড়ালে ভারী বৃষ্টি বা জলাবদ্ধতার এই ক্ষতি কমানো বা ঠেকানো যায়।
স্লেক টেস্ট এই স্থায়িত্ব যাচাইয়ের একটি সহজ উপায়। মাঠ থেকে এক দলা মাটি তুলে আনতে হয়। বালতির পানিতে একটি জালি ডুবিয়ে রেখে তার ওপর মাটির দলাটি আলতো করে বসাতে হয়, যাতে সেটি পানির নিচে থাকে। দলাটি ভেঙে মিহি কণা হয়ে বালতির তলায় জমলে বুঝতে হবে মাটির জোট দুর্বল। আর দলাটি প্রায় অটুট থাকলে, তলায় সামান্যই জমলে, জোট শক্ত।
ওয়েস্টফালের কথায়, সুস্থ মাটিতে সাধারণত জৈব পদার্থ বেশি থাকে, কণার জোটও বেশি টেকসই হয়। তিনি বলেন, "জোটের এই স্থায়িত্ব জরুরি, কারণ এটাই মাটিকে নিজের জায়গায়, মাঠের ওপর ধরে রাখে।"
ম্যানিটোবা কো-অপারেটর মাটির স্বাস্থ্য গড়ার পাঁচটি প্রধান চর্চার কথা বলেছে: চাষ ও মাটি নাড়াচাড়া কমানো, ভালো শস্যপর্যায় মেনে নানা ধরনের ফসল রাখা, মৌসুমের যতটা সম্ভব সময় মাটিতে জীবন্ত শিকড় রাখা, মাটি ফসল বা ফসলের অবশেষ দিয়ে ঢেকে রাখা এবং খামারে গবাদিপশুকে যুক্ত করা।
ছবি: ইউএসডিএ এনআরসিএস সাউথ ডাকোটা / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ম্যানিটোবা কো-অপারেটর





মন্তব্য
(০)