কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলনে পাকিস্তান নতুন ঋণ নয়, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন চাইবে। ইসলামাবাদে ডায়ালগ আর্থকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন দেশটির জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সমন্বয় প্রতিমন্ত্রী শেজরা মনসব খারাল (Shezra Mansab Kharal)। তাঁর ভাষায়, "আরও ঋণ আর ঋণ আদায়ের বিরুদ্ধে আমরা দৃঢ়ভাবে 'না' বলব।" তবে খুব সহজ শর্তের ঋণ হয়তো বিবেচনা করা যেতে পারে বলেও জানান তিনি।
২০২২ সালের বন্যায় ১,৭০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এবং অন্তত ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। সে বছরই কপ২৭-এ লস অ্যান্ড ড্যামেজ তহবিল গঠনের পক্ষে জোর তদবির করে পাকিস্তান। চার বছর পরও সেই তহবিল থেকে দেশটি কিছুই পায়নি। খারাল জানান, প্রকল্পপ্রতি ২ কোটি ডলারের সীমার মধ্যে পাকিস্তান মোট ৩ কোটি ৯৯ লাখ ডলারের দুটি প্রকল্প প্রস্তাব দিয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত একটি অনুমোদনের আশা করছে। এ পর্যন্ত প্রতিশ্রুত অর্থকে তিনি "নগণ্য" বলেছেন।
তাঁর মতে দেরির কারণ বৈশ্বিক অর্থায়ন ব্যবস্থা নিজেই, যা কঠিন, দীর্ঘ ও জটিল হয়ে উঠেছে: স্বীকৃতি পাওয়ার প্রক্রিয়া, বিস্তর কারিগরি কাগজপত্র, প্রকল্প তৈরির খরচ আর দীর্ঘ অনুমোদন। স্বচ্ছতার অভাবে প্রতিশ্রুতি ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে, এ ধারণাকে তিনি ভুল বলেছেন, যদিও শাসনে স্বচ্ছতাকে গুরুত্বপূর্ণ মানেন।
খারাল দুই ধরনের অর্থায়নকে আলাদা করেছেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক প্রশমন প্রকল্পে সহজ শর্তের ঋণ ও বেসরকারি পুঁজি আসতে পারে। কিন্তু বন্যা প্রতিরোধ, হিমবাহ পর্যবেক্ষণ ও আগাম সতর্কতার মতো অভিযোজনের কাজে কোনো মুনাফা আসে না, তাই সেখানে অনুদান লাগে। দুর্যোগে আক্রান্ত দেশের ঋণ পরিশোধ সাময়িক স্থগিত রাখার ব্যবস্থা এবং ঋণ অদলবদলের মতো উপায়ের পক্ষেও কথা বলবে পাকিস্তান। দেশটির এনডিসি ৩.০ অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য, যার ১৭ শতাংশ নিজের চেষ্টায় আর ৩৩ শতাংশ আন্তর্জাতিক সহায়তার শর্তে।
অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি কৃষি অগ্রাধিকারে আছে, বলেন তিনি। পরিকল্পনায় রয়েছে জলবায়ু সহনশীল ফসলের জাত, ড্রিপের মতো সাশ্রয়ী সেচ, উন্নত পানি ব্যবস্থাপনা, তাপ ও খরা সইতে পারা চাষপদ্ধতি এবং কৃষকের জন্য জলবায়ু পরামর্শসেবা, কারণ দেশটি একই সঙ্গে বন্যা ও পানির সংকটে ভুগছে, যা খাদ্য নিরাপত্তায় আঘাত করে। পাঞ্জাবের ধোঁয়াশা কমাতে পরিচ্ছন্ন পরিবহন ও নিঃসরণ মানের পাশাপাশি ফসলের অবশিষ্টাংশ ব্যবস্থাপনায় কাজ চলছে; বিশ্বব্যাংক পাঞ্জাব ক্লিন এয়ার প্রোগ্রামে ৩০ কোটি ডলার দিচ্ছে।
বিশ্বের মোট নিঃসরণের ১ শতাংশেরও কম করা পাকিস্তান প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বাড়ানোর দাবিও তুলবে এবং আঞ্চলিক অংশীদারত্ব চায়, কারণ হিমালয়-কারাকোরাম অঞ্চলের দুর্যোগ সীমান্ত মানে না, বলেন খারাল। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ডায়ালগ আর্থের পাকিস্তান সম্পাদক ফারাহনাজ জাহিদি মোয়াজ্জম (Farahnaz Zahidi Moazzam)।
ছবি: NASA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন), ২০২২ সালের বন্যার আগে ও পরে সিন্ধুর উপগ্রহচিত্র
সূত্র: Dialogue Earth




মন্তব্য
(০)