আয়ারল্যান্ডের কর্ক কাউন্টির গরুতে শনাক্ত হওয়া শামোন্ডা ভাইরাস আয়ারল্যান্ড বা ইউরোপীয় ইউনিয়নে নোটিফায়েবল (বাধ্যতামূলকভাবে জানাতে হয় এমন) রোগ নয়, তাই পশু চলাচল বা বাণিজ্যে এর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন দেশটির কৃষি, খাদ্য ও সামুদ্রিক বিষয়ক মন্ত্রী মার্টিন হেইডন (Martin Heydon)। একটি বেসরকারি ল্যাবরেটরি দেশে প্রথমবার ভাইরাসটি শনাক্তের খবর দেওয়ার পর ২ অক্টোবর তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আক্রান্ত বেশির ভাগ পশুর অসুস্থতা মৃদু; মূল দুশ্চিন্তা গর্ভবতী পশু নিয়ে, কারণ সংক্রমণে গর্ভপাত হতে পারে। এর কোনো টিকা বা চিকিৎসা নেই। উদ্বিগ্ন খামারি ও ঘোড়ার মালিকদের নিজস্ব পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, কর্কের বানডনের অ্যানিমেল হেলথ ল্যাবরেটরিজে দুটি খামারের গরুর নমুনায় ভাইরাসটি পাওয়া গেছে; কৃষি বিভাগ ল্যাবটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং পরবর্তী তদন্ত করবে। ল্যাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফ্রেয়া ভন এগ্রিল্যান্ডকে জানান, দুই খামারের তিনটি পশুর নমুনায় ভাইরাস মিলেছে।
ভন বলেন, গ্রীষ্মে ইউরোপে ভাইরাসটি ছড়ানোর খবর জানার পর ল্যাবের নেদারল্যান্ডসভিত্তিক মূল প্রতিষ্ঠান জিডি গ্রুপ জরুরি ওয়েবিনার করেছিল; তখন দুগ্ধ খামারিরা দুধ হঠাৎ কমে যাওয়ার অভিযোগ নিয়ে ফোন করছিলেন। তাঁর ভাষায়, "দিনে ২৫-৩০ লিটার দেওয়া গাভি ৫ লিটারে নেমে আসছে, এটাই ছিল মূল লক্ষণ।" বানডনের আশপাশের খামারিরাও গরুর ডায়রিয়ার খবর দিয়েছিলেন।
যুক্তরাজ্যের পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক বিভাগ ডেফরা জানিয়েছে, শামোন্ডা ভাইরাস প্রধানত কিউলিকয়েডিস জাতের ক্ষুদ্র কামড়ানো মাছির মাধ্যমে ছড়ায় বলে ধারণা করা হয়; ইউরোপজুড়ে গরুকে আক্রান্ত করার পর সম্প্রতি জার্সি দ্বীপের গরুতেও এটি পাওয়া গেছে। এতে জ্বর, ডায়রিয়া, অবসাদ ও দুধ কমে যায়, আক্রান্ত গরুর গর্ভপাতও দেখা গেছে।
ছবি: Scott Bauer, USDA ARS / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Agriland





মন্তব্য
(০)