ডিম খেলে কি কোলেস্টেরল বাড়ে, কুসুম কি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তৈরি করে, দিনে কয়টা ডিম নিরাপদ? এসব প্রচলিত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিবিসি বাংলা কথা বলেছে পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শক ডা. অরুণ কুমারের সঙ্গে।
তাঁর ব্যাখ্যায়, একটি ডিমে প্রায় ৬০ ক্যালরি আর প্রায় ছয় গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন থাকে; শরীর এই প্রোটিন প্রায় পুরোটাই শোষণ করতে পারে বলে একে প্রোটিনের মানদণ্ড ধরা হয়। শুধু সাদা অংশই উপকারী, এ ধারণা ভুল: কুসুমেও প্রোটিন আছে, আছে স্নায়ুতন্ত্রের জন্য জরুরি কোলিন, যা গর্ভবতী নারী ও ভ্রূণের বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এবং চোখের জন্য দরকারি লুটেইন ও জিয়াজ্যান্থিন।
ডা. অরুণ কুমার বলেন, একটি কুসুমে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে ঠিকই, কিন্তু রক্তের সব কোলেস্টেরল খাবার থেকে আসে না। শরীরের প্রতিদিন প্রায় ২,০০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল দরকার হয়, যা যকৃতেই তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে বেশির ভাগ মানুষ দিনে কুসুমসহ এক থেকে দুটি পুরো ডিম খেতে পারেন; বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যে ছয় মাস বয়স থেকে শিশুকে অল্প ডিম খাওয়ানো যায়।
উন্মুক্ত পরিবেশে পালা মুরগির ডিমে ওমেগা-৩ কিছুটা বেশি থাকতে পারে, তবে প্রোটিন একই; শুধু প্রোটিনের জন্য খেলে দুই-তিন গুণ দামের ফ্রি-রেঞ্জ ডিম কেনার দরকার নেই, বলেন তিনি। মুরগিকে হরমোন ইনজেকশন দেওয়ার ধারণাকেও তিনি ভুল বলেছেন: হরমোন দিয়ে মুরগি পালা যায় না, মুরগিকে কেবল রোগ প্রতিরোধের টিকা দেওয়া হয়। ডিম বা মুরগির মাংসের সঙ্গে মেয়েদের আগাম বয়ঃসন্ধির সম্পর্কেরও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই বলে জানান তিনি।
তবে কাঁচা ডিম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি: এতে সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, আর অ্যাভিডিন নামের প্রোটিন বায়োটিন শোষণে বাধা দেয়। সেদ্ধ, হাফ বয়েল বা ভাজা, রান্নার ধরনে বড় পার্থক্য হয় না।
প্রতিবেদনটি বিবিসি বাংলার, লিখেছেন শান্মুগা প্রিয়া সেলভারাজ।
ছবি: Joao Estevao A. de Freitas (jefras) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: বিবিসি বাংলা





মন্তব্য
(০)