যুক্তরাজ্যজুড়ে সদ্য গজানো দানাশস্যের খেতে জাবপোকা, গাউট ফ্লাই ও লিফহপারের খবর মিলছে, ফলে কীটনাশক দেওয়ার চাপে পড়েছেন চাষিরা। সাসটেইনেবল ফার্মিং ইনসেনটিভের (এসএফআই) কীটনাশকমুক্ত বিকল্প বেছে নেওয়া কেউ কেউ হেক্টরপ্রতি ৪৫ পাউন্ডের অনুদান হারানোর ঝুঁকি নিয়েও স্প্রে করার কথা ভাবছেন, জানিয়েছে ফার্মার্স উইকলি।
কৃষি ও উদ্যান উন্নয়ন বোর্ড এএইচডিবির (AHDB) নতুন বার্লি ইয়েলো ডোয়ার্ফ ভাইরাস (বিওয়াইডিভি) মডেলিং টুলের পূর্বাভাস, ৫ অক্টোবর বোনা শীতকালীন গমে কীটনাশক না দিলে হেক্টরে ০.৫ টন ফলন কমতে পারে, আয় কমবে প্রায় ৯০ পাউন্ড। অ্যাগ্রোভিস্তার (Agrovista) কারিগরি ব্যবস্থাপক মার্ক হেম্যান্ট (Mark Hemmant) বলেন, জমির চারপাশ পুরোপুরি আবাদি ফসলে ঘেরা না থাকলে ক্ষতি হেক্টরে ২১০ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে; আগাম বোনা খেত ও শীতকালীন বার্লিতে ঝুঁকি আরও বেশি।
অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে রথামস্টেডের (Rothamsted) পতঙ্গ জরিপে বার্ড চেরি-ওট জাবপোকা ধরা পড়ছিল বাড়তি হারে, বেশির ভাগ জায়গায় তিন অঙ্কে। এএইচডিবির তথ্য অনুযায়ী, এর ৫০ শতাংশের বেশি ছিল দানাশস্যে বসতি গড়তে সক্ষম ডানাওয়ালা জাবপোকা, যেখানে ১০ বছরের গড় ১২.৯ শতাংশ; প্রায় ৪০ শতাংশ বহন করছিল ভাইরাস। হেম্যান্টের মতে, গরম গ্রীষ্মে সবুজ গাছ কম থাকায় জাবপোকার ভাইরাস নেওয়া কঠিন হবে ভাবা হয়েছিল, কিন্তু পরীক্ষা উল্টোটা দেখাচ্ছে। এএইচডিবি ও প্রচলিত টি-সাম, দুই মডেলই দ্বিতীয় দফা বিস্তার ঠেকাতে স্প্রের সময় ঠিক করে; তাই মডেল এখনো স্প্রে করতে না বললেও প্রাথমিক সংক্রমণ ঠেকাতে ওষুধ দেওয়া উপকারী হতে পারে, বিশেষ করে হাইব্রিড রাই বা বার্লির মতো কম বীজহারের খেতে।
গাউট ফ্লাইয়ের ডিম এবার শুধু গত বছরের মতো কিছু অঞ্চলে নয়, সারা দেশে মিলছে; ডিম পাড়ার সাত দিনের মধ্যে পাইরেথ্রয়েড দেওয়ার পরামর্শ হেম্যান্টের। গমের বামন ভাইরাস ছড়ানো সিরিয়াল লিফহপার দক্ষিণ ইংল্যান্ডে বাড়ছে; গজানোর পর থেকেই খেত ঝুঁকিতে থাকে, লক্ষণ দেখা দেয় খেতজুড়ে ছোট ছোট ছিটানো দাগে, আর পাইরেথ্রয়েডের কার্যকারিতা তাঁর ভাষায় বড়জোর মাঝারি। সরিষাজাতীয় তেলবীজে ক্যাবেজ স্টেম ফ্লি বিটলের উপদ্রব কমে এলেও টার্নিপ স' ফ্লাই ও উইন্টার স্টেম উইভিল বাড়ছে।
এসএফআইয়ের নির্দেশিকা বলছে, কীটনাশকমুক্ত বিকল্পে (C/IPM4) থাকা চাষিকে আর্থিক ক্ষতি ঠেকাতে স্প্রে করতে হলে যত দ্রুত সম্ভব করতে হবে এবং দুই মাসের মধ্যে রুরাল পেমেন্টস এজেন্সিকে জানাতে হবে; সংস্থাটি অনুদান কমবে কি না ঠিক করবে। অনুদান হারানো আর স্প্রে না করার ক্ষতি, দুটো মিলিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন ফার্মার্স উইকলির এমা গিলবার্ড (Emma Gillbard)।
ছবি: Katja Schulz / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Farmers Weekly





মন্তব্য
(০)