ফ্রান্সের বীজ বপন যন্ত্র নির্মাতা অ্যাগ্রিসেম (Agrisem) তাদের চিফ প্রিসিশন ড্রিলে এমন সেন্সর দিচ্ছে, যা বীজ বোনার সময়ই নালার মাটির আর্দ্রতা, তাপমাত্রা আর ফসলের অবশিষ্টাংশ মাপে, যাতে বীজ সবচেয়ে উপযুক্ত গভীরতায় পড়ে। খবরটি দিয়েছে ফিউচার ফার্মিং।
ব্যবস্থাটির মূলে এজিসিওর অংশ প্রিসিশন প্ল্যান্টিংয়ের স্মার্টফার্মার (SmartFirmer): বীজের নালায় চলা একটি চাপদণ্ড, যার ভেতরে আছে তাপমাত্রা সেন্সর ও নিকট-অবলোহিত (এনআইআর) সেন্সর। এটি নিরবচ্ছিন্নভাবে আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা লিখে রাখে এবং নালায় জৈব পদার্থ ও ফসলের অবশিষ্টাংশের হার মাপে; উদ্দেশ্য মূলত, চাষ না দিয়ে সরাসরি ভুট্টা বা সয়াবিন বোনার সময় অবশিষ্টাংশ যেন অঙ্কুরোদ্গম নষ্ট না করে। প্রায় ১০ বছর আগে প্রিসিশন প্ল্যান্টিং এটি আনে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকির কৃষক ইউজিন কিটনের (Eugene Keeton) ১৯৯০-এর দশকের কিটন সিড ফার্মারের উন্নত রূপ হিসেবে; পুরোনো যন্ত্রেও এটি লাগানো যায়।
স্মার্টফার্মার শুধু মাপে; সেই পাঠ অনুযায়ী কাজ করে অন্য যন্ত্রাংশ। ডেল্টাফোর্স প্রতিটি সারির ইউনিটে হাইড্রোলিকভাবে ফালের চাপ ঠিক করে; স্মার্টডেপথ বৈদ্যুতিক মোটরে বোনার গভীরতা সূক্ষ্মভাবে বদলায়; আর ফারোফোর্স একটি লোড সেল ও বাতাসের থলি দিয়ে ঠিক করে নালা বন্ধ করার চাকা কতটা চাপে বীজের ওপর মাটি চাপবে, যাতে অবশিষ্টাংশভরা নালা থেকে বাতাস বেরিয়ে বীজ ভেজা মাটির সংস্পর্শ পায়। চালকের আসনের ২০/২০ পর্দায় তাপমাত্রা, নালার আর্দ্রতা, গভীরতা ও অবশিষ্টাংশ দেখা যায়।
প্রযুক্তিটি দামি। নেদারল্যান্ডসের ন্যাশনাল ফিল্ডল্যাব ফর প্রিসিশন ফার্মিং প্রকল্পে ২০২৫ সাল থেকে ব্যবহৃত ছয় সারির চিফের মূল দাম প্রায় ৬৯,০০০ ইউরো; ছয় সারির তিনটিতে স্মার্টফার্মার এবং ছয়টিতেই ডেল্টাফোর্স, স্মার্টডেপথ ও ফারোফোর্স যোগ করলে খরচ বাড়ে ২১,০০০ ইউরোর বেশি। তাই ডাচ যন্ত্রটিতে এক সারি পরপর সেন্সর, পাশের সারি সেই পাঠ ব্যবহার করে। অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠান এমপিটি অ্যাগটেকেরও নালার ভেতর পরিমাপের একই রকম প্রযুক্তি আছে।
সমানভাবে চারা গজানোর শুরু ভেজা মাটিতে একই গভীরতায় বীজ পড়া থেকে; সে কারণেই নালার ভেতরের সেন্সর গবেষণার প্লট থেকে বাণিজ্যিক বীজ বপন যন্ত্রে উঠে আসছে।
ছবি: Miquel Pujol Palol / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ফিউচার ফার্মিং





মন্তব্য
(০)