মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বৈলতলা গ্রাম জেলায় ‘লেবুর গ্রাম’ নামে পরিচিত। উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১১০ হেক্টর জমিতে লেবুর আবাদ হয়েছে, যার ৯০ হেক্টরই এই গ্রামে। সারা বছর বাগান থেকে লেবু তুলে বিক্রি করেন চাষিরা, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ লেবু যায় দেশের নানা জায়গায়।
গ্রামজুড়ে এখন বাগান পরিষ্কার করে সার দেওয়ার কাজ চলছে, সামনে রমজানের চাহিদা মাথায় রেখে। কেউ শ্রমিক দিয়ে লেবু তুলছেন, কেউ ঝুড়িতে করে রাস্তার পাশে জমা করছেন, কেউ ছোট-বড় ও পাকা লেবু বাছাই করে খাঁচায় ভরে গাড়িতে তুলছেন। বাগানে আছে কাগজি, এলাচি ও কলম্বো জাতের লেবু।
গ্রামে প্রথম দিকে লেবু চাষ শুরু করা খোরশেদ আলম বলেন, একসময় এলাকায় আখের চাষ হতো। প্রায় ৩০ বছর আগে তাঁরা লেবু চাষ শুরু করেন; অন্য ফসলের চেয়ে লাভ বেশি হওয়ায় ধীরে ধীরে গ্রামের সবাই লেবুর দিকে ঝোঁকেন।
সাড়ে তিন বিঘার বাগানের মালিক শাহ আলম জানান, একবার চারা রোপণ করে যথাযথ পরিচর্যা করলে ১০ থেকে ১২ বছর ফলন মেলে। বছরে চারবার বড় আকারে লেবু তোলা যায়, এর বাইরে সারা বছরই কমবেশি বিক্রি করা যায়। গ্রামের লেবু কুমিল্লার নিমসার ও ঢাকার কারওয়ান বাজারের আড়তসহ দেশের নানা জায়গায় যায়।
স্থানীয় লেবু ব্যবসায়ী আজাহার আলী এ বছর ছয় বিঘার একটি বাগান এক বছরের জন্য দুই লাখ ২০ হাজার টাকায় কিনেছেন। শ্রমিকের মজুরি, সার ও সেচের খরচ বাদে তিনি দুই লাখ টাকা লাভের আশা করছেন; দাম বেশি থাকলে লাভ বাড়ে, কম থাকলে কমে।
সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. তানিয়া তাবাসসুম বলেন, উপজেলায় সবচেয়ে বেশি লেবুবাগান বৈলতলায়, লাভজনক হওয়ায় এলাকায় লেবু চাষ দিন দিন বাড়ছে। চাষিরা এলাচি, সিডলেস, কলম্বো, কাগজি ও স্থানীয় জাতের লেবু চাষ করেন।
ছবি: গাছে লেবু ও ফুল, Prosthetic Head / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0); প্রতীকী ছবি
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)