কলার পাতায় কালো দাগ ফেলা ছত্রাক রোগ ব্ল্যাক সিগাটোকা আর বাড়তে থাকা বৃষ্টি ও গরমের সঙ্গে লড়তে কোস্টারিকা এখন ড্রোন দিয়ে নজরদারি, জিন সম্পাদনা আর মাটির উপকারী অণুজীবের ওপর ভরসা করছে। ১৮ থেকে ২৬ অক্টোবর আন্তর্জাতিক কৃষি সাংবাদিক ফেডারেশনের (IFAJ) আয়োজনে দেশটি ঘুরে এ খবর দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ফুড ফর মজানসির সাংবাদিক লিসাকানিয়া ভেন্না (Lisakanya Venna)।
ক্ষতির হিসাব দিয়েছে কোস্টারিকার জাতীয় কলা করপোরেশন করবানা (Corbana), যা চাষিদের কারিগরি সহায়তা, পরীক্ষাগার সেবা ও গবেষণা দেয়। ২০২৪ সালের শেষ তিন মাসে বৃষ্টি হয়েছিল ১,৫০০ মিলিমিটার। এর জেরে ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ কমে যায়। সারা বছরে রপ্তানি দাঁড়ায় ১১ কোটি ৪ লাখ বাক্সে, যা ২০২৪ সালে ছিল ১২ কোটি ৫৭ লাখ বাক্স।
করবানার গবেষণায় ড্রোন দিয়ে মাঠ ঘুরে ব্ল্যাক সিগাটোকা গুরুতর হওয়ার আগেই ধরার কাজ চলছে। পাশাপাশি তারা ব্ল্যাক সিগাটোকা ও ফিউজারিয়াম উইল্ট ট্রপিক্যাল রেস ৪ (TR4), দুই রোগই সইতে পারে এমন ক্যাভেন্ডিশ ধরনের সংকর জাত তৈরি করছে। মাটিবাহিত রোগ দমনে ব্যবহার হচ্ছে ব্যাসিলাস ও ট্রাইকোডার্মা নামের উপকারী অণুজীব। সমন্বিত ছত্রাকনাশক কর্মসূচি, জৈব-উৎস পণ্য, সিট্রোনেলা আর রোগের পূর্বাভাস দেওয়ার পদ্ধতিও আছে তাদের তালিকায়।
আর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের (Earth University) খামারে, যা আশির দশকের শেষে ডব্লিউ কে কেলগ ফাউন্ডেশনের অর্থে কেনা এক বাণিজ্যিক কলাবাগান এবং এখনো কলা চাষ করে, আদ্রিয়ান হিমেনেস সুনিগা (Adrian Jiménez Zúñiga) জানান, প্রবল বর্ষণে মাঠে পানি জমে গাছ ও শিকড়ের ক্ষতি হয়, পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়। এমন ভেজা আবহাওয়াই ছত্রাকের জন্য অনুকূল। আপাতত রোগ দেখা দিলে নির্দিষ্ট জায়গায় স্প্রে করা হয়, শ্রমিকেরা হাতে কলার কাঁদি ব্যাগে মুড়ে দেন, আর ভুট্টা থেকে তৈরি প্লাস্টিকের মোড়ক পরীক্ষা হচ্ছে।
সুনিগার কথায়, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান জাত উন্নয়ন ও প্রযুক্তিতে। বাণিজ্যিক কলায় বীজ হয় না বলে বুনো প্রতিরোধী জাত থেকে গুণ আনা কঠিন; সে কারণেই যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো জিন সম্পাদনার দিকে ঝুঁকছে।
ফুড ফর মজানসি লিখেছে, মাঠের ব্যবস্থাপনা, জৈব গবেষণা আর কড়া জৈবনিরাপত্তার এই সমন্বয় জলবায়ুর বদল সামলাতে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার কলাচাষিদের জন্যও পথ দেখাতে পারে।
ছবি: Plant pests and diseases / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: ফুড ফর মজানসি





মন্তব্য
(০)