জিম্বাবুয়ে থেকে আসা এক শিক্ষানবিশের সঙ্গে এক বছর কাজ করে কী শিখেছেন, ফার্মার্স উইকলির কলামে তা লিখেছেন ব্রিটিশ কৃষক স্যাম ওয়াকার (Sam Walker)। মতামত লেখকের নিজস্ব।
ব্লেক ভ্যান রুইয়েন (Blake Van Rooyen) কাছের বিকটন কলেজে পড়াশোনার অংশ হিসেবে গত এক বছর ওয়াকারের খামারে কাজ করছেন; তাঁর বাড়ি জিম্বাবুয়ের কৃষিপ্রধান এলাকা মারোন্ডেরায়। ওয়াকার লিখেছেন, সাব-সাহারান আফ্রিকায় চাষে অভ্যস্ত কাউকে ব্রিটিশ কৃষির খবর বোঝাতে গিয়ে অনেক প্রসঙ্গ ব্যাখ্যা করতে হয়েছে, আর চোখে পড়েছে পত্রিকার পাঠকেরা প্রায়ই কতটা ক্ষুব্ধ।
তুলনাগুলো চলেছে পাতায় পাতায়। ওয়াকার ব্যাখ্যা করেছেন কৃষিজমিতে উত্তরাধিকার করের পরিবর্তন; ভ্যান রুইয়েন বুঝিয়েছেন জিম্বাবুয়ের সংবিধানের ১৭তম সংশোধনী, যা ওয়াকারের বর্ণনায় ক্ষতিপূরণ ছাড়াই ব্যক্তিমালিকানার খামার জাতীয়করণ করেছিল। আগাম বোনা সরিষাজাতীয় তেলবীজে ক্যাবেজ স্টেম ফ্লি বিটলের ক্ষতি যতই হোক, জিম্বাবুয়ের ওপর দিয়ে মাঝে মাঝে যাওয়া পঙ্গপালের ঝাঁকের তুলনায় তা নিরীহ, দুজনেই একমত হয়েছেন। ব্রিটেনের গবাদিপশুর যক্ষ্মা আর কুকুরের উৎপাতের আফ্রিকান রূপ হলো স্থায়ী ক্ষুরারোগ, চিতাবাঘ আর জলাতঙ্কে আক্রান্ত শিয়াল; তালিকা চলতে পারে খরা, জ্বালানি ও সারের ঘাটতি, বিদ্যুৎবিভ্রাট, চুরি, ম্যালেরিয়া আর বিষধর সাপ পর্যন্ত।
১৯৯০-এর দশকের শেষে এক বছর জিম্বাবুয়েতে কাটানো ওয়াকার বলছেন, এই তালিকা দেশটির প্রতি অবিচার। হাইভেল্ড অঞ্চলের মাটি ও জলবায়ু অবিশ্বাস্য বৈচিত্র্য ও প্রাচুর্যের ফসল দিতে পারে; তাঁর ভাষায়, চ্যালেঞ্জ কঠিন হতে পারে, কিন্তু সেখানকার কৃষকেরা আরও শক্ত।
দুপুরের খাবার টেবিলে বসে দেখলে, ওয়াকার লিখেছেন, ব্রিটিশ কৃষির সমস্যা ছোট মনে হয়। ব্রিটেনে সরকার বুনো ফুল ও পাখির খাবার ফলাতে, পশুর পরীক্ষায় পশুচিকিৎসকের খরচ দিতে অর্থ দেয়, আর আছে আইনের শাসন। শুকনো গ্রীষ্ম, লাল ডিজেলের বাড়তি দাম আর তাঁর ভাষায় উদাসীন সরকার একজন জিম্বাবুয়ের কৃষকের কাছে নরম বিছানার বালিশে সামান্য ভাঁজের মতো মনে হতে পারে।
ছবি: Babakathy / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Farmers Weekly





মন্তব্য
(০)