ব্যস্ততা, মানসিক অস্থিরতা আর জাগতিক চিন্তায় নামাজে একাগ্রতা বা 'খুশু-খুজু' ধরে রাখা অনেকের জন্য কঠিন। প্রথম আলোর ধর্ম ডেস্ক কোরআন, হাদিস ও ইমাম গাজালির লেখা থেকে নামাজে মনোযোগ ফেরানোর পাঁচটি উপায় তুলে ধরেছে।
প্রথমত, যে সুরা, তাসবিহ ও দোয়া পড়া হয়, সেগুলোর অর্থ জানা। অর্থ না বুঝলে মন সহজেই অন্য চিন্তায় চলে যায়। সুরা মুমিনুনের প্রথম দুই আয়াতে সফল মুমিনদের পরিচয় দেওয়া হয়েছে তাঁরা, যাঁরা নামাজে বিনীত ও নম্র।
দ্বিতীয়ত, প্রতিটি নামাজকে জীবনের শেষ নামাজ মনে করা। সুনানে ইবনে মাজাহর ৪১৭০ নম্বর হাদিসে রাসুল (সা.) এমনভাবে নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন, যেন এটিই জীবনের শেষ নামাজ।
তৃতীয়ত, তাড়াহুড়ো না করা। রুকু, সেজদা ও কেয়াম ধীরস্থিরভাবে করা নামাজের আবশ্যকীয় বিধান। সহিহ বুখারির ৭৫৭ নম্বর হাদিসে এক সাহাবিকে দ্রুত নামাজ পড়তে দেখে রাসুল (সা.) তিনবার আবার নামাজ পড়তে বলেছিলেন এবং জানিয়েছিলেন, স্বস্তির সঙ্গে রুকু-সিজদা না করা পর্যন্ত নামাজ পূর্ণ হবে না।
চতুর্থত, 'ইহসান'-এর অনুভূতি: এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করা, যেন তাঁকে দেখা যাচ্ছে, আর না দেখলেও তিনি দেখছেন (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০)। ইমাম গাজালি ইহইয়াউ উলুমিদ্দিনে লিখেছেন, বান্দা যখন বোঝে সে কার সামনে দাঁড়িয়েছে, তখন তার অন্তর উপস্থিত থাকে এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আপনাআপনি বিনম্র হয়।
পঞ্চমত, শয়তানের প্ররোচনা থেকে আত্মরক্ষা। সহিহ মুসলিমের ২২০৩ নম্বর হাদিসে সাহাবি ওসমান ইবনে আবিল আস (রা.) মনোযোগ ছুটে যাওয়ার কথা বললে রাসুল (সা.) 'আউজুবিল্লাহ' পড়ে আশ্রয় চাইতে বলেছিলেন। ধর্ম ডেস্কের ভাষায়, নামাজে মনোযোগ এক দিনে আসে না, এটি নিরবচ্ছিন্ন সাধনা; পাঁচ ওয়াক্তে এ চর্চা নামাজকে অন্তরের প্রশান্তির মাধ্যম করে তোলে।
ছবি: Masumcity / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)