নামাজ, রোজা, দান-সদকা কিংবা মানুষের উপকার, সবই নেক আমল। তবে আমল করাই যথেষ্ট নয়, তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়াও জরুরি। প্রথম আলোর ধর্ম পাতায় আলেম, লেখক ও গবেষক রায়হান আল ইমরান কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইবাদত কবুলের চারটি শর্ত তুলে ধরেছেন।
প্রথম শর্ত ইমান: আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, তাঁর নির্দেশনার প্রতি আনুগত্য এবং শিরক থেকে মুক্ত থাকা। লেখক সুরা নিসার ১২৪ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে, মুমিন অবস্থায় যে সৎকর্ম করবে, পুরুষ হোক বা নারী, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
দ্বিতীয় শর্ত, ইবাদত রাসুলের (সা.) নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া; ধর্মের নামে ভিত্তিহীন নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন গ্রহণযোগ্য নয়। এখানে সহিহ বুখারির ২৬৯৭ নম্বর হাদিস এসেছে: দ্বীনের বিষয়ে কেউ এমন নতুন কিছু সৃষ্টি করলে, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।
তৃতীয় শর্ত হালাল উপার্জন ও পবিত্র খাবার। লেখক সহিহ মুসলিমের ১০১৫ নম্বর হাদিসের উল্লেখ করেছেন, যেখানে রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না; এরপর দীর্ঘ সফরে ক্লান্ত, ধুলামলিন এক ব্যক্তির কথা বলেছেন, যে দুই হাত তুলে দোয়া করে অথচ তার খাবার, পানীয় ও পোশাক হারাম, তাহলে তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে।
চতুর্থ শর্ত ইখলাস, অর্থাৎ মানুষের প্রশংসা, সামাজিক মর্যাদা বা ব্যক্তিস্বার্থের জন্য নয়, একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইবাদত। সুরা বাইয়্যিনাহর ৫ নম্বর আয়াত এবং লোকদেখানো নামাজিদের সম্পর্কে সুরা মাউনের ৪ থেকে ৬ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে লেখক 'রিয়া' বা লোকদেখানো মনোভাব থেকে সাবধান থাকতে বলেছেন।
লেখকের পরামর্শ, আমল করার আগে নিজের নিয়ত যাচাই করা: কাজটি কি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, নাকি মানুষের প্রশংসার জন্য। উপার্জন ও ভোগের প্রতিটি ক্ষেত্রে হালাল-হারামের বিধান মেনে চলাকে তিনি নেক আমলের সমান জরুরি বলেছেন। লেখার মতামত ও ব্যাখ্যা লেখকের নিজের।
ছবি: Azim Khan Ronnie / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)