সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ১ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩০°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬৫%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

রাইস সলিউশন অ্যাপ, কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের উদ্যোগ

কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের গুণগতমান ভালো হয়। উৎপাদন খরচ কম হয়, শ্রমিক কম লাগে। কৃষি উপকরণ কম লাগে, কাজ নির্ভুল হয়, সময় কম লাগে, ঝুঁকি কম ও উৎপাদন বেশি হয়। কৃষির প্রায় সব ক্ষেত্রে এআই প্রয়োগ সম্ভব। যেমন- এআই তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস জেনে ফসলের

কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের গুণগতমান ভালো হয়। উৎপাদন খরচ কম হয়, শ্রমিক কম লাগে। কৃষি উপকরণ কম লাগে, কাজ নির্ভুল হয়, সময় কম লাগে, ঝুঁকি কম ও উৎপাদন বেশি হয়। কৃষির প্রায় সব ক্ষেত্রে এআই প্রয়োগ সম্ভব। যেমন- এআই তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস জেনে ফসলের বীজ বপন বা চারা উৎপাদন বা চারা রোপণের সময় নির্ধারণ করে দেয়। এআই সঠিক দূরত্বে ও গভীরতায় বীজ বপন বা চারা রোপণ করে। এআই ফসল ও আগাছা চিহ্নিত করে আগাছা দমন করতে পারে। এআই বীজ ফসলের জমি থেকে অন্য জাতের ফসলের গাছ তুলতে পারে। এআই ফসলের রোগ ও পোকামাকড় শনাক্ত করতে পারে ও দমনের উপায় জানিয়ে দেয়। যাতে সময়মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। কীটনাশক ৬০ শতাংশ ব্যবহার কমানো সম্ভব।

এআই মাটির তথ্য বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত মাটি অনুযায়ী ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় সার সুপারিশ ও প্রয়োগ করতে পারে। ফলে সারের ব্যবহার, খরচ ও পরিবেশগত প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। এআই মাটির প্রয়োজনীয় পানির পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারে। বিভিন্ন ফসলে সঠিক সময়ে উপযুক্ত সেচ পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারে। ফলে পানির ব্যবহার, খরচ ও পরিবেশগত প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। এআই ফুল কবে ফুটবে, ফল কবে পাকবে, কত ফল, ফসল পাওয়া যাবে সেই তথ্য দেয়। ফসল কর্তন, সংগ্রহ, মাড়াই, ঝাড়াই, শুকানো, বস্তায় ভরার কাজগুলো করতে পারে।

এআই বিভিন্ন বাজারের কৃষিপণ্যের দাম জানাতে পারে। ফলে কৃষকেরা উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম পায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত সেন্সর গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির স্বাস্থ্য, তাপমাত্রা, পরিবেশ ও আচরণ ট্র্যাক করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সুপারিশ করে এগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সক্ষম। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত সেন্সর মৎস্য খামারের পানির গুণাগুণ, তাপমাত্রা, পিএইচ, ঘোলাত্ব ও পরিবেশ এবং মাছের স্বাস্থ্য, ঘনত্ব ও বৃদ্ধি পর্যায় অনুযায়ী আচরণ ট্র্যাক করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সুপারিশ করে এগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সক্ষম। এআই কৃষি বিজ্ঞানীদের গবেষণায় সহায়তা করে। গবেষণার জমিতে বা গবেষণাগারে পরীক্ষণ সেট করা, তদারকি করা, ডাটা সংগ্রহ করা, ডাটা বিশ্লেষণ করা, রিভিউ সংগ্রহ ইত্যাদি কাজ দক্ষতার সাথে করতে পারে।

এআই কৃষি সম্প্রসারণে সহায়তা করে, যেমন- নতুন উদ্ভাবিত জাত, প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি, পণ্য, কৃষি তথ্য প্রচার করতে পারে। এআই বন্যা, খরা, ঝড়, বৃষ্টিপাত, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদির পূর্বাভাস দিতে পারে। জমি চাষ, মাটি শোধনও সেচের পরামর্শ দেয়, ফসলের সার্বিক মনিটরিং করে- মাটির পুষ্টি, আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, পিএইচ, লবণাক্ততা জানাতে পারে। ফসলের রোগ ও পোকামাকড় জানা এবং তার সমাধান দেওয়া এবং এর মাধ্যমে কৃষিপণ্যের বাজারদর জানা যায়। কৃষিতে এআই প্রযুক্তি সম্বলিত ড্রোন অর্থাৎ ড্রোনের সঙ্গে এআই কাস্টমাইজ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সমন্বয় করলে ড্রোন একবার ফসলের ক্ষেতের ওপর দিয়ে উড়ে গেলে ওই এলাকার যে সার্বিক অবস্থা জানাতে পারে।

বাংলাদেশে কৃষি মন্ত্রণালয় কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এআই কাজে লাগিয়ে মাঠের তদারকি করতে পারে, যেমন- ফসলের উৎপাদন জানা, ফসলের সার্বিক মনিটরিং করা, মাটির পুষ্টি, আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, পিএইচ, লবণাক্ততা জানা, ফসলের পুষ্টির অভাব জানা, ফসলের রোগ ও পোকামাকড় জানা এবং কীটনাশক স্প্রে করা। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষির ক্ষতিগ্রস্ত ইমেজ প্রসেসিং, বিগ ডাটা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে পারে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বাজারে কৃষিপণ্যের দাম যাচাই-বাছাই করা, চাহিদা জোগান, আমদানি রপ্তানি ক্ষেত্রে আইওটি, বিগ ডাটা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে।

জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমিতে আইওটি, বিগ ডাটা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি প্রয়োগের ওপর প্রশিক্ষণ দিতে পারে। কৃষি তথ্য সার্ভিসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে কৃষি কল সেন্টারে সেবা দেওয়া ও তথ্য প্রচার করার সুযোগ আছে। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হয়ে উঠেছে শিক্ষা এবং আধুনিক কৃষি ক্ষেত্রে অপার সম্ভাবনার অংশ। তারই ধারাবাহিকতায় এরই মধ্যে কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে মোবাইল অ্যাপ বের করেছে। এই অ্যাপ দিয়ে কৃষকেরা কৃষির বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ধানের রোগবালাই চিহ্নিতকরণের লক্ষ্যে 'রাইস সলিউশন' (সেন্সরভিত্তিক ধানের বালাইব্যবস্থাপনা) নামের একটি মোবাইল অ্যাপস উদ্বোধন করেছে। যা ধানের ক্ষেত থেকেই আক্রান্ত ধান গাছের ছবি দেখে রোগ চিহ্নিত করতে সক্ষম। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এরই মধ্যে 'ই-ভিলেজ' নামক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পে সেন্সরের মাধ্যমে ফসলি জমির মাটির স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানা যায়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে কৃষিতে সব উন্নয়ন করা সম্ভব। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের জন্য কৃষি একটি উজ্জ্বল ক্ষেত্র। এরই মধ্যে অনেক দেশ কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করে সুফল পাচ্ছে। নেদারল্যান্ডের অ্যাগ্রোকেয়ারস কৃষিকাজে ব্যবহারযোগ্য এআই চালিত হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার তৈরি করে। এদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো তাদের নিউট্রিয়েন্ট স্ক্যানার। যন্ত্রটি জমির মাটি নমুনা হিসেবে নিয়ে তাতে কোন কোন উপাদানের ঘাটতি আছে তা জানিয়ে দিতে পারে। এতে কৃষক আগে থেকেই তার জমি চাষের জন্য যথাযথ সার দিয়ে প্রস্তুত করতে পারবেন।

জার্মানের পিটের বানানো অ্যাপ্লিকেশনটি মাটির পুষ্টি ঘাটতি শনাক্ত করার পাশাপাশি জমিতে ফসলের কী কী রোগ হতে পারে, এসব তথ্য ব্যবহার করে সেই জমি এবং শস্যের জন্য উপযুক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহারের উপদেশ দিতে পারে। এ জন্য কৃষককে শুধু তার ফসলের কয়েকটি ছবি তুলে দিলেই হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বাকি কাজ নিজে থেকেই করে দেবে অ্যাপ্লিকেশনটি। ভারতের ইন্টেলো ল্যাবস নামের আরেকটি স্টার্টআপ কম্পিউটার ভিশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ফল বা সবজির অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারে। এতে বাজারজাত করার সময় ফল ও সবজির পচনজনিত অপচয় কমানো যায়।

চ্যাটজিপিটির মতো কৃষিসংক্রান্ত চ্যাটবটেও হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার। মাইক্রোসফটের ফার্মভাইবস.বট এমনই একটি চ্যাটবট। এর কাজ হলো কৃষকদের ফসল, জমি ও আবহাওয়া বিবেচনা করে ব্যক্তিগতভাবে পরামর্শ এবং উপদেশ দেওয়া। আফ্রিকার প্রায় পাঁচ লাখ কৃষক এরই মধ্যে এটি ব্যবহার করে সুফলও পাচ্ছেন। আমাদের দেশের কৃষকেরাও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুফল ভোগ করতে শুরু করেছেন।

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

এগ্রোটেক

সম্পর্কিত খবর

এগ্রোটেক

বিনায় চালু হলো গামা ইরেডিয়েশন প্রযুক্তি, কৃষিপণ্য রপ্তানিতে নতুন সুযোগ

গাজীপুরে বিনার আঞ্চলিক কেন্দ্রে ৮৯ কোটি টাকার গামা ইরেডিয়েশন সেন্টার চালু হয়েছে; এতে আম-কাঁঠালের মতো কৃষিপণ্য জীবাণুমুক্ত করে বেশি দিন রাখা যাবে।

এগ্রিকেয়ার২৪১ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

সৌরবিদ্যুতের পাতকুয়ায় সেচ, মীরসরাইয়ে চাষের আওতায় ২০ একর পতিত জমি

বিএডিসির বসানো সৌরবিদ্যুৎচালিত ছয়টি ডাগওয়েল বা পাতকুয়া থেকে বিদ্যুৎ বা ডিজেল ছাড়াই সেচের পানি পাচ্ছেন মীরসরাইয়ের পাহাড়ি এলাকার কৃষকেরা।

এগ্রিকেয়ার২৪১ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

মৌচাকের মুখে রাখা খাদ্য সম্পূরকে বাড়ল মৌমাছির সংখ্যা, ব্লুবেরির পরাগায়নে গবেষণা

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটি ও এইচফোরবিজের গবেষণায় ন্যানো-বি-ফিড পাওয়া মৌচাকে মৌমাছি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দেখা গেছে; আরও বড় পরীক্ষার পরিকল্পনা আছে।

Farms.com৩১ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)