দেশে ২০২৬-২৭ বিপণন বছরে বোরো, আউশ ও আমন মিলিয়ে চাল উৎপাদন কমতে পারে বলে পূর্বাভাস উঠে এসেছে। ঢাকা মেইলের প্রতিবেদক আব্দুল হাকিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্যের ভিত্তিতে করা হিসাবে ২০২৫-২৬ বিপণন বছরে তিন মৌসুমে মোট ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হয়েছে, যা আগামী বছর কমে ৩ কোটি ৬৯ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে—এক বছরে ৭ লাখ ৫০ হাজার টনের হ্রাস।
ধানের মোট আবাদি এলাকাও ১ কোটি ১৭ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর থেকে ১ লাখ হেক্টর কমে ১ কোটি ১৬ লাখ ৫০ হাজার হেক্টরে নামতে পারে। বোরো ও আমনে আবাদি এলাকা অপরিবর্তিত থাকলেও উৎপাদন কমার পূর্বাভাস, আর আউশে আবাদ ও উৎপাদন দুটিই কমতে পারে।
প্রধান মৌসুম বোরোতে ৪৯ লাখ হেক্টরে উৎপাদন ২ কোটি ৫ লাখ টন থেকে ২ কোটি ৩ লাখ টনে (প্রায় ১ শতাংশ কম) নামতে পারে। আউশের আবাদি এলাকা ১০ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৯ লাখ ৫০ হাজার হেক্টরে এবং উৎপাদন ২৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২১ লাখ টনে—প্রায় ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ—কমার পূর্বাভাস। আমনে ৫৮ লাখ হেক্টরে উৎপাদন ১ কোটি ৪৮ লাখ থেকে ১ কোটি ৪৫ লাখ টনে (প্রায় ২ শতাংশ কম) নামতে পারে। তবে ২০২৪-২৫ বিপণন বছরের ৩ কোটি ৬৬ লাখ টনের তুলনায় আগামী বছরের সম্ভাব্য উৎপাদন ৩ লাখ টন বেশি।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) সম্ভাব্য এল নিনো, উৎপাদক পর্যায়ে ধানের দাম কমা ও উপকরণ ব্যয় বাড়ার কারণে ২০২৬-২৭ মৌসুমে বৈশ্বিক চাল উৎপাদন ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমার পূর্বাভাস দিয়েছে, যার বড় অংশ এশিয়ায়। সংস্থাটির হিসাবে বাংলাদেশে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৪ কোটি ১৫ লাখ টন থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে উৎপাদন ৪ কোটি ১৩ লাখ টনে—দশমিক ৫ শতাংশ—কমতে পারে।
ডিএইর মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুর রহিম ঢাকা মেইলকে বলেন, নিয়মিত বৃষ্টিতে আমনে সেচের প্রয়োজন কম হয়েছে; প্রায় ৫৯ লাখ হেক্টরের আমন ভালো অবস্থায় আছে এবং বাম্পার উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে—এবার আমন থেকে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টন চাল। আগামী বোরোতে ৫০ লাখ হেক্টরের বেশি জমিতে আবাদ হবে এবং জ্বালানি ও গ্যাস সংকট থাকলেও ধান উৎপাদনে বড় প্রভাবের আশঙ্কা নেই বলে তিনি জানান; তাঁর হিসাবে বোরো, আমন ও আউশ মিলিয়ে চাল উৎপাদন প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ টনের কাছাকাছি।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বোরো শুরুর আগেই সেচ নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে; সেচের প্রায় ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ ও ৫০ শতাংশ জ্বালানি তেলচালিত নলকূপনির্ভর হওয়ায় জ্বালানি সংকট চললে বোরোসহ পরের মৌসুমের উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে; সমাধান হিসেবে সৌরশক্তিচালিত সেচে জোর দেন তিনি।
বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির মহাসচিব প্রফেসর এএসএম গোলাম হাফিজ কেনেডি বলেন, সেচ, যান্ত্রিকীকরণ ও সার উৎপাদন—সবখানেই জ্বালানির সঙ্গে কৃষির সরাসরি সম্পর্ক; গ্যাস সংকটে সার কারখানা ব্যাহত হলে সরকারকে আমদানির ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সারের দাম যেন কৃষকের নাগালের বাইরে না যায়। আবহাওয়া, বন্যা, খরা ও রোগবালাই বিবেচনায় পূর্বাভাসের কারণ স্পষ্ট করা দরকার বলেও তিনি মত দেন।
সূত্র: ঢাকা মেইল — প্রতিবেদন: আব্দুল হাকিম




মন্তব্য
(০)