ধানক্ষেতে কতটা সার লাগবে, তা পুরো এলাকার জন্য এক মাপে না দিয়ে প্রতিটি জমি ধরে হিসাব করার পদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে ভিয়েতনামের মেকং বদ্বীপে ছয়টি প্রশিক্ষক-প্রশিক্ষণ কর্মশালা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (IRRI, ইরি), ভিয়েতনাম রাইস সেক্টর অ্যাসোসিয়েশন (VIETRISA, ভিয়েত্রিসা) এবং প্রাদেশিক কৃষি ও পরিবেশ বিভাগ ২০২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবরের মধ্যে কান থো, কা মাউ, আন জিয়াং, দং থাপ, তায় নিন ও ভিন লং প্রদেশে এসব কর্মশালা করে। ২৮৪টি কমিউনের প্রায় ৭৫০ জন কৃষক, প্রাদেশিক ও কমিউন পর্যায়ের সম্প্রসারণকর্মী এবং সমবায়ের বোর্ড সদস্য এতে অংশ নেন।
এই কমিউনগুলোর প্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর জমি ভিয়েতনামের ‘এক মিলিয়ন হেক্টর উচ্চমান, স্বল্প-নিঃসরণ ধান’ কর্মসূচিতে নিবন্ধিত। ২০৩০ সালের মধ্যে বদ্বীপের ধান উৎপাদন বদলে দেওয়াই কর্মসূচির লক্ষ্য। অঞ্চলটিতে ধান উৎপাদন খরচের প্রায় ২৯ থেকে ৩২ শতাংশই সার, তাই সারের দক্ষ ব্যবহারে লাভ বাড়ে, নিঃসরণও কমে।
নিখুঁত পুষ্টি ব্যবস্থাপনার মূল কথা হলো, ধান শুধু সার থেকে নয়, মাটি, সেচের পানি, পলি ও জৈব উপাদান থেকেও পুষ্টি নেয়। পদ্ধতিটি ‘৪আর’ কাঠামো মেনে চলে: সঠিক উৎসের সার, সঠিক মাত্রায়, সঠিক সময়ে ও সঠিক স্থানে; সঙ্গে সুষম সার, পানি ব্যবস্থাপনা ও ফসলের অবশিষ্টাংশ পুনর্ব্যবহার। আন জিয়াংয়ের কর্মশালায় ইরির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. নগুয়েন ভান বো বলেন, সবার জন্য একই হারে সার কমানোর বদলে জাত, মাটি, বৃদ্ধির ধাপ ও চাষপদ্ধতি অনুযায়ী পরামর্শ দেওয়াই এর কাজ।
প্রশিক্ষণের বড় অংশ ছিল রাইস ক্রপ ম্যানেজার নামের ডিজিটাল সিদ্ধান্ত-সহায়ক টুল হাতে-কলমে ব্যবহার। টুলটি জমির উৎপাদন পরিস্থিতি, ধানের জাত ও চাষপদ্ধতি ধরে ওই জমির জন্য আলাদা সার সুপারিশ তৈরি করে। অংশগ্রহণকারীরা মাঠের তথ্য সংগ্রহ, টুলের সুপারিশ বোঝা এবং তা কৃষকের উপযোগী পরামর্শে রূপ দেওয়া অনুশীলন করেন। সিজিআইএআরের স্কেলিং ফর ইমপ্যাক্ট (S4I) কর্মসূচির ভিয়েতনাম প্রকল্পপ্রধান নগুয়েন ভান হুং বলেন, জালো (Zalo) মেসেজিং অ্যাপভিত্তিক ভার্চুয়াল সহকারী ও সার প্রয়োগের ক্যালেন্ডারের সঙ্গে যুক্ত থাকায় পরামর্শ কৃষকের কাছে সহজে পৌঁছায়। চাষের নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা নথিভুক্ত ও যাচাই করার ভিরিসার্ট (ViRiCert) ব্যবস্থাও দেখানো হয়; এসব নথি ‘ভিয়েতনাম গ্রিন লো-এমিশন রাইস’ লেবেলের যাচাইয়ে কাজে লাগতে পারে।
কর্মশালা থেকে স্থানীয় পরিকল্পনাও এসেছে। আন জিয়াংয়ে দেড়শর বেশি অংশগ্রহণকারী কমিউনভিত্তিক সম্প্রসারণ পরিকল্পনা করেছেন; প্রদেশটি ২০৩০ সালের মধ্যে ৮৬টি কমিউন ও ওয়ার্ডে ৩ লাখ ৫১ হাজার ৩৬২ হেক্টর জমি কর্মসূচিতে আনতে চায়। দং থাপে ৪৯টি কমিউন ও ওয়ার্ডের প্রায় ১১০ জন একইভাবে পরিকল্পনা করেন। আন জিয়াংয়ের বিন থান কৃষি সমবায়ের পরিচালক নগুয়েন থান জিয়াং বলেন, জমিভিত্তিক সুপারিশে সদস্যরা ফলন ও মান ঠিক রেখে উপকরণ খরচ কমাতে পারবেন।
আয়োজকেরা প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিতে নারী-পুরুষের সমান সুযোগের ওপর জোর দেন; দং থাপে এ কথা বলেন আন্তর্জাতিক আলু কেন্দ্রের (CIP) জেন্ডার বিশেষজ্ঞ নোজোমি কাওয়ারাজুকা। তাঁদের মতে, পরের চ্যালেঞ্জ হলো এই সক্ষমতাকে কৃষকের স্থায়ী চর্চায় আর সারের দক্ষতায় মাপা যায় এমন সুফলে রূপ দেওয়া। কর্মশালাগুলোতে সহায়তা দিয়েছে এস৪আই, ইউএসডিএর অর্থায়নে ফার্টিলাইজ রাইট প্রকল্প এবং তাইওয়ান আইসিডিএফ-ক্যাবিন প্রকল্প। প্রতিবেদনটি লিখেছে ইরি ভিয়েতনাম।
ছবি: Adam Jones / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: সিজিআইএআর (CGIAR)




মন্তব্য
(০)