সয়াবিনের ফলন যত বাড়ছে, ফসলটি মাটির ফসফরাস ও পটাশিয়ামের মজুত তত কমিয়ে দিচ্ছে; তাই কৃষকদের পুরো শস্যচক্র ধরে এই দুই পুষ্টির হিসাব রাখতে হবে। কানাডার ম্যানিটোবা কৃষি বিভাগের মাটির উর্বরতা বিশেষজ্ঞ মারলা রিকম্যান একটি জাত-পরীক্ষার মাঠ পরিদর্শনে এ কথা বলেন বলে জানিয়েছে ম্যানিটোবা কো-অপারেটর।
প্রেইরি নিউট্রিয়েন্ট রিমুভাল ক্যালকুলেটরের হিসাবে, একরে ৪০ বুশেল সয়াবিন একরপ্রতি প্রায় ৩৫ পাউন্ড ফসফেট (P2O5) ও ৪৬ পাউন্ড পটাশ (K2O) তুলে নেয়। রিকম্যান বলেন, প্রতি বছর সয়াবিনে এই পরিমাণ সার দিতে হবে এমন নয়, কারণ ফসলের চাহিদার বড় অংশ মাটিই জোগায়; কিন্তু যা তোলা হয় তা যদি নিয়মিত যোগ করা সারের চেয়ে বেশি হয়, ঘাটতিটা মাটির মজুত থেকেই যায়। তাঁর কথায়, ‘পটাশিয়াম আর ফসফরাসের হিসাব হলো, যতটা যায় ততটা ফেরাতে হবে।’
প্রেইরির মাটিতে, বিশেষ করে ভারী এঁটেল মাটিতে, ঐতিহাসিকভাবে প্রচুর পটাশিয়াম ছিল, কিন্তু বেশি ফলনের ফসল সেই মজুত কমিয়ে দিচ্ছে। পরিদর্শনের জমিতে মাটিতে ফসফরাস ছিল প্রায় ১১ পিপিএম, যা রিকম্যানের লক্ষ্যসীমা ১০ থেকে ১৫-এর মধ্যে; এতে সারের দাম বেশি হলে প্রয়োগ কমানোর সুযোগ থাকে। পটাশিয়াম প্রায় ১৮০ পিপিএম, যাকে তিনি বলেন ‘কমে আসছে’। মাটি পরীক্ষার মান খুব নেমে গেলে আবার বাড়াতে কয়েক বছর ধরে ফসলের তুলে নেওয়ার চেয়ে বেশি যোগ করতে হয়।
রিকম্যান আরও বলেন, খরায় পুষ্টি শোষণ কমে যায়, তাই মাটিতে যথেষ্ট পটাশিয়াম থাকলেও পুরোনো পাতার কিনারা হলুদ হওয়ার মতো পটাশ-ঘাটতির লক্ষণ দেখা দিতে পারে। বাড়তি সার দেওয়ার আগে তিনি মাটি ও গাছের টিস্যু পরীক্ষার পরামর্শ দেন।
ম্যানিটোবা পালস অ্যান্ড সয়াবিন গ্রোয়ার্সের উৎপাদন কৃষিবিদ টেরি বাস বলেন, ‘সয়াবিন উর্বর মাটি পছন্দ করে, সার নয়।’ তাঁর ব্যাখ্যা, সয়াবিন মাটি থেকে পুষ্টি টানতে খুব দক্ষ এবং যে বছর চাষ হয় সে বছরের সারে খুব একটা সাড়া দেয় না; তাই সয়াবিনের আগেই মাটির উর্বরতা গড়ে তুলতে হবে, আর সারের দাম ও ফসলের আয় অনুকূল থাকলে শস্যচক্রের অন্য ফসলে ফসফরাস ও পটাশ যোগ করতে হবে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন ডন নরম্যান।
ছবি: United Soybean Board / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Manitoba Co-operator




মন্তব্য
(০)