লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম ৬২তম ‘ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতার ১০০টি বাছাই ছবির গ্যালারি প্রকাশ করেছে। তার একটি দক্ষিণ আফ্রিকার আলোকচিত্রী আর্নেস্ট পোর্টারের ‘মিউচুয়াল ফ্রেন্ডস’: মানিয়েলেতি গেম রিজার্ভে একটি রেড-বিল্ড অক্সপেকার গন্ডারের মুখের কাছে বসে তার ঠোঁট গন্ডারের চামড়ায় ঘষছে। প্রথম আলোর জীবনযাপন ডেস্ক ছবিটির পেছনের গল্প লিখেছে।
রেড-বিল্ড অক্সপেকার শুধু গন্ডার নয়, জিরাফ, জেব্রা ও হরিণের মতো বড় তৃণভোজী প্রাণীর শরীরে বসেও খাবার খোঁজে। এসব প্রাণীর শরীরের মাছি, উকুন, টিকসহ নানা পরজীবী তার খাবারের বড় উৎস। ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের ভাষ্য, অক্সপেকার তৃণভোজী প্রাণীর শরীরের পরজীবী নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
গন্ডারের দৃষ্টিশক্তি খুব ভালো নয়। পিঠে বসে আশপাশ দেখতে পারা অক্সপেকার বিপদ এগিয়ে এলে অস্থির হয়ে ডেকে সতর্ক করতে পারে। এ কারণেই পাখিটিকে বড় তৃণভোজীদের ‘রক্ষী’ বা ‘প্রহরী’ বলা হয়। সোয়াহিলি ভাষায় এর একটি নাম ‘আসকারি ওয়া কিফারু’, অর্থাৎ ‘গন্ডারের রক্ষী’।
দুই ভিন্ন প্রজাতির এমন সম্পর্কে উভয় পক্ষ উপকৃত হলে জীববিজ্ঞানে তাকে মিউচুয়ালিজম বলে; পোর্টারের ছবির নামও সেখান থেকে। ছবি তোলার সময় তিনি অক্সপেকারকে ঠোঁট পরিষ্কার করতে দেখেছিলেন, গন্ডারের চোখের চারপাশের নীলচে বলয়ও তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল।
প্রতিযোগিতার বিভাগীয় বিজয়ী ও গ্র্যান্ড টাইটেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা হবে ১৩ অক্টোবর, আর বাছাই ১০০টি ছবি ১৬ অক্টোবর থেকে ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে প্রদর্শিত হবে। প্রথম আলো তথ্য নিয়েছে ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক থেকে।
ছবি: Harvey Barrison / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0); দক্ষিণ আফ্রিকায় গন্ডারের পিঠে রেড-বিল্ড অক্সপেকার
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)