একসময় রাজশাহী শহরের বুক দিয়ে বয়ে যেত বারাহী, স্বরমঙ্গলা ও দয়া নদী। নৌকায় পণ্য আসা-যাওয়া করত, তীরে ছিল রেশমের কারখানা। নগর বেড়েছে, নদীগুলো চাপা পড়েছে। এখন সেগুলোর পুরোনো গতিপথের বড় অংশজুড়ে নর্দমা, যা দিয়ে শহরের বর্জ্যপানি গিয়ে মিশছে বারনই নদীতে। এতে নদীর পানি ব্যবহারের অযোগ্য হচ্ছে, মরছে মাছ।
তালাইমারীতে ছিল স্বরমঙ্গলার উৎসমুখ; পদ্মা থেকে আসা নদীটি রুয়েট এলাকার আগে দয়া নদীর সৃষ্টি করেছিল। ২০১৯ সালে রেললাইনের ওপর উড়ালসেতুর প্রকল্পের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কবরস্থানের পাশের জলাভূমিটি ভরাট হয়ে দয়ার পুরোনো প্রবাহপথের দৃশ্যমান অংশও হারিয়ে যায়। পদ্মা থেকে বের হয়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে পবার মহানন্দখালীতে বারনইয়ে মিশত বারাহী; এখন উৎসমুখে আছে স্থানীয়ভাবে ‘এক নম্বর ড্রেন’ নামে পরিচিত বড় নর্দমা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকের অপরিশোধিত বর্জ্য, বিসিক শিল্প এলাকার বর্জ্য, কারখানার রাসায়নিক মেশানো পানি, গৃহস্থালি বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশনের পানি সরাসরি বারনইয়ে পড়ছে। বারাহীর বর্তমান নর্দমা পবার দুয়ারিতে বারনইয়ে মিশেছে, পবা গাঙপাড়া ও বায়া-মহানন্দখালী খাল দিয়েও দূষিত পানি যাচ্ছে।
সম্প্রতি রাজশাহীর বাগমারা থেকে নাটোরের নলডাঙ্গা পর্যন্ত বারনইয়ে মাছ মরে ভেসে ওঠে; ২০২২ সালেও এমন ঘটেছিল। নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওমর আলী বলেন, এবার নমুনা পরীক্ষায় পানিতে অক্সিজেন দ্রুত কমে যাওয়া আর অ্যামোনিয়া বেড়ে যাওয়ার প্রমাণ মিলেছে। মেঘলা আবহাওয়ায় অক্সিজেন কমার সঙ্গে শহরের বর্জ্য ও নদীতে পাট জাগ দেওয়ার বর্জ্য ভাটিতে গিয়ে একসঙ্গে দূষণ বাড়িয়েছিল বলে জানান তিনি।
নদীপাড়ের মানুষ দাদ, ছত্রাক, স্ক্যাবিসসহ নানা চর্মরোগে ভুগছেন বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। পবার নওহাটার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বাঁচার আশা সাংস্কৃতিক সংগঠন’ গত বছর অববাহিকায় জরিপ চালিয়ে দাবি করেছে, নদীর পানি ব্যবহারের কারণে রাজশাহী ও নাটোরের সাত উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষ চর্মরোগে আক্রান্ত। সংগঠনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা বিজলী বলেন, সিভিল সার্জনের সহযোগিতায় করা স্বাস্থ্য ক্যাম্প প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল ছিল।
নদী গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, সিটি করপোরেশন ও ওয়াসাকে বর্জ্য শোধনাগার বানাতে হবে। বাপার রাজশাহী শাখার সভাপতি জামাত খান আরএস ও সিএস রেকর্ড ধরে হারানো নদী উদ্ধারের দাবি জানান। রাজশাহী ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী পারভেজ মাসুদ বলেন, বর্জ্য শোধনাগারের প্রকল্প প্রস্তুত, অর্থায়নের জন্য জাইকার সঙ্গে আলোচনা চলছে। সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন জানান, তাঁরাও শোধনাগারের পরিকল্পনা করছেন, তবে কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।
প্রতিবেদনটি বাংলানিউজের রাজশাহী ডিভিশনাল করেসপন্ডেন্টের।
ছবি: Emonjnu / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0); ঢাকার বুড়িগঙ্গার দূষিত পানির প্রতীকী ছবি
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)