মৌলভীবাজারের রাজনগরের উত্তরভাগ চা-বাগান তাদের ৫০ একর নির্জন বনভূমিতে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য গড়ার পরীক্ষামূলক কাজ শুরু করেছে। জায়গাটি বাগানের বড়তল লেকের পাশে, যেখানে নানা প্রজাতির পশুপাখির আনাগোনা বেড়েছে বলে জানিয়েছে মানবজমিন।
ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্সের সহযোগিতায় এবং মৌলভীবাজার বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে একটি আহত মেছো বিড়াল ধরে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এরপর স্যাটেলাইট বেল্ট পরিয়ে সেটিকে পরীক্ষামূলকভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে তার গতিবিধি দেখা যায়।
বাগানের শ্রমিক সাজু, জিতেন ও মদন বলেন, পাশে লেক থাকায় এখানে মেছো বিড়ালের বিচরণ বেশি। বন্যপ্রাণীর খাবার বাড়লে আনাগোনা আরও বাড়বে বলে তাঁদের ধারণা।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা মির্জা মেহদী সরওয়ার বলেন, তাঁদের জানামতে বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো চা-বাগান বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। কাজটি তাঁদের অনুমতি নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে।
উত্তরভাগ ও ইন্দানগর চা-বাগানের সিনিয়র ম্যানেজার লোকমান চৌধুরী বলেন, বন উজাড়, অবৈধ শিকার, বন্যপ্রাণী পাচার, জলাভূমি ভরাট ও দূষণে অনেক প্রাণী তাদের আবাসস্থল হারাচ্ছে। সম্প্রতি দুই বাগান কর্তৃপক্ষ ও অ্যালায়েন্স উত্তরভাগ ইউনিয়ন পরিষদে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বিশিষ্টজনদের নিয়ে সচেতনতা সভাও করেছে।
সভায় অ্যালায়েন্সের ম্যানেজার শিমুল নাথ বলেন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গণসচেতনতা জরুরি। উত্তরভাগ বাগানে চা গাছের পাশাপাশি রয়েছে বিশাল বনাঞ্চল।
ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: মানবজমিন





মন্তব্য
(০)