বিশ্বের সবচেয়ে বড় গরুর মাংস উৎপাদক ও রপ্তানিকারক হিসেবে ব্রাজিলের উত্থান বিশ্ববাণিজ্যের চেহারা বদলে দিচ্ছে এবং অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি প্রধান রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াচ্ছে। কৃষি খাতের ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান রাবোব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
রাবোব্যাংকের জ্যেষ্ঠ প্রাণিজ আমিষ বিশ্লেষক অ্যাঙ্গাস গিডলি-বেয়ার্ড (Angus Gidley-Baird) জানান, যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে ব্রাজিল এখন বছরে ১ কোটি ১৭ লাখ টন গরুর মাংস উৎপাদন করে, যার প্রায় ৩৫ লাখ টন রপ্তানি হয়। সাও পাওলোতে রাবোব্যাংকের বিশ্লেষক ওয়াগনার ইয়ানাগুইজাওয়া (Wagner Yanaguizawa) বলেন, ২০২৩ সালে দেশটির গবাদিপশুর সংখ্যা রেকর্ড ১৯ কোটি ৬০ লাখে পৌঁছায় এবং এখনো প্রায় সেই পর্যায়ে আছে; উন্নত জাত, ভারী শবদেহ, ভালো খাদ্য রূপান্তর আর ফিডলটের বিস্তার উৎপাদনশীলতা বাড়াচ্ছে।
একসময় ব্রাজিল নিজের উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশ মাংস দেশেই খেত, ২০২৫ সালে তা নেমেছে ৬১ শতাংশে। রপ্তানিতে লাভও বেশি: ২০২৫ সালে দেশের বাজারে শবদেহের গড় দাম ছিল টনপ্রতি প্রায় ৩০ হাজার রিয়াল, রপ্তানির জন্য ৩৭ হাজার রিয়াল। তুলনায় অস্ট্রেলিয়া নিজের উৎপাদনের ৬৫-৭০ শতাংশ রপ্তানি করে।
মূল চাবিকাঠি চীন। ব্রাজিলের গরুর মাংস রপ্তানির ৪৬ শতাংশই যায় চীনে, কিন্তু নতুন কোটার কারণে ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে চালান অনেক কমেছে। গত বছর চীনে গেছে ১৬ লাখ ৫০ হাজার টন, এ বছর তা নেমে প্রায় ১২ লাখ থেকে সাড়ে ১২ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে। উদ্বৃত্ত মাংস অন্য বাজারে বিক্রি করতে হবে।
ইয়ানাগুইজাওয়ার ধারণা, সাময়িক শুল্কমুক্ত কোটার সুবাদে যুক্তরাষ্ট্র এর একটি অংশ নেবে; মধ্যপ্রাচ্য, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, চিলি ও যুক্তরাজ্যেও সুযোগ আছে, তবে তা চীনের ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করবে না। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া ব্রাজিলের কারখানা পরিদর্শন শেষ করেছে, এ বছরের শেষ দিকে বাজার খুলতে পারে। তাঁর ভাষায়, এই দুই বাজার অস্ট্রেলিয়ার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ, আর শিগগির সেখানে নতুন প্রতিযোগী আসতে পারে।
গিডলি-বেয়ার্ডের মতে, অস্ট্রেলীয় রপ্তানিকারকদের প্রশ্ন হলো ব্রাজিল কতটা মাংস অন্য দিকে ঘোরাতে পারবে এবং আগামী কয়েক মাসে দামের প্রতিযোগিতায় তার প্রভাব কী হবে। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের উৎপাদন কিছুটা কমার আশা থাকলেও দীর্ঘ মেয়াদে দেশটির রপ্তানি জোরালোভাবে বাড়বে বলেই মনে করে রাবোব্যাংক।
ছবি: Carlos Ebert / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Beef Central





মন্তব্য
(০)