ভারতের পাঞ্জাব ও হরিয়ানার মান্ডিগুলোতে বাসমতি ধানের দাম কুইন্টালপ্রতি ৫,০০০ রুপি ছাড়িয়েছে; জনপ্রিয় পুসা ১১২১ (Pusa 1121) জাত কোনো কোনো বাজারে ৫,৫০০ রুপিতে উঠেছে। রুরাল ভয়েস জানিয়েছে, এ বছর ধানের আবাদ কম হওয়া আর আবহাওয়ায় ফসলের ক্ষতির মধ্যে এই দাম কৃষকদের কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।
কৃষকেরা এখন কুইন্টালে প্রায় ৪,৫০০-৫,৫০০ রুপি পাচ্ছেন, গত বছর একই সময়ে পেয়েছিলেন ৩,৫০০-৪,৫০০ রুপি; অর্থাৎ ১,০০০-১,৫০০ রুপি বেশি। মূল কারণ পশ্চিম এশিয়া ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বাড়তি চাহিদা। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে জড়িয়ে চলমান সংঘাতে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা বেড়েছে, তাই আমদানিকারক দেশগুলো চালের মজুত বাড়াচ্ছে।
অল ইন্ডিয়া রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এআইআরইএ) সভাপতি সতীশ গোয়েল (Satish Goyal) রুরাল ভয়েসকে বলেছেন, আন্তর্জাতিক চাহিদা জোরালো থাকায় রপ্তানিকারকেরা কৃষকদের ভালো দাম দিতে পারছেন। তবে সমুদ্রপথে জাহাজভাড়া বেড়ে যাওয়া আর গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের অনিশ্চয়তাও তাঁদের সামলাতে হচ্ছে।
অনেক কৃষক এখনই বিক্রি করছেন না। হরিয়ানার আম্বালা জেলার কৃষক এবং ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের (শহীদ ভগৎ সিং) নেতা তেজবীর সিং (Tejveer Singh) বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে এ বছর বাসমতির দাম বাড়বে বলে কৃষকেরা আগেই আশা করেছিলেন, তাই অনেকে আরও ভালো দামের আশায় ধান ধরে রাখছেন। তাঁর কথায়, কাটা সবে শুরু হয়েছে, ডিসেম্বরের মধ্যে দাম আরও বাড়বে বলে কৃষকেরা মনে করছেন।
ধানের সঙ্গে চালের দামও বেড়েছে। দিল্লিতে ১১২১ বাসমতি চাল কুইন্টালপ্রতি ১০,৬০০-১০,৮০০ রুপিতে পৌঁছেছে, হরিয়ানার কারনালে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৯,৫২৫-৯,৭২৫ রুপিতে। মুন্দ্রা ও কান্ডলা বন্দরে ১১২১ বাসমতির রপ্তানি মূল্য এক সপ্তাহে প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ১,১৫৬ ডলার হয়েছে।
ভারতের বাসমতি রপ্তানির বড় অংশ যায় পশ্চিম এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটি ৬৫ লাখ ২১ হাজার টন বাসমতি চাল রপ্তানি করেছে, যার মূল্য ৫৬৭ কোটি ডলার, প্রায় ৫০,১৩৮ কোটি রুপি; বড় ক্রেতাদের মধ্যে আছে সৌদি আরব, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে রপ্তানিকারকদের আশঙ্কা, দেশের বাজারে ধানের দাম আরও বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমতে পারে।
প্রতিবেদন: অজিত সিং (Ajeet Singh), রুরাল ভয়েস।
ছবি: Tanta.dpk / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Rural Voice





মন্তব্য
(০)