কানাডা এখন যে কাঁচা ফসল বিদেশে রপ্তানি করে, তার মাত্র ১০ শতাংশ যদি দেশেই প্রক্রিয়াজাত করা যায়, তবে দেশটির অর্থনীতিতে ৫৪০ কোটি (৫.৪ বিলিয়ন) ডলার পর্যন্ত যোগ হতে পারে এবং পূর্ণকালীন হিসাবে প্রায় ৩৪ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইওয়াই (EY)-এর এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে, যা প্রকাশ করেছে প্রোটিন ইন্ডাস্ট্রিজ কানাডা (Protein Industries Canada)।
মডেল অনুযায়ী, জিডিপি বৃদ্ধির পাশাপাশি খাদ্য উৎপাদন শিল্পের উৎপাদন বাড়বে ৭৯০ কোটি ডলার। নতুন কর্মসংস্থান ছড়িয়ে পড়বে প্রক্রিয়াজাতকরণ, উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায়, আর সরকারের বাড়তি রাজস্ব আসতে পারে ১১০ কোটি ডলার পর্যন্ত।
কানাডার কৃষি ও খাদ্য খাত ২০২৪ সালে দেশের জিডিপিতে ১৪ হাজার ৯২০ কোটি ডলার যোগ করেছে এবং প্রায় ২৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান দিয়েছে। দেশটি গম, ক্যানোলা ও ভুট্টার বড় উৎপাদক, কিন্তু এসব ফসলের বড় অংশ কোনো মূল্য সংযোজন ছাড়াই রপ্তানি হয়ে যায়।
প্রক্রিয়াজাত খাদ্য উপাদানের বিশ্ববাজারও বিশ্লেষণে দেখা হয়েছে। ইওয়াইয়ের হিসাবে এই বাজার ২০২৫ সালের ৪৩ হাজার ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার থেকে ২০৪০ সালে ৮০ হাজার ১৯০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যার প্রায় ৪ হাজার ২১০ কোটি মার্কিন ডলারের অংশ কানাডার হতে পারে।
প্রোটিন ইন্ডাস্ট্রিজ কানাডার প্রধান নির্বাহী টাইলার গ্রোনেভেল্ড (Tyler Groeneveld) বলেন, কানাডা ইতিমধ্যেই কৃষিতে শক্তিশালী; এখন সুযোগ হলো ফসলের মূল্যের বড় অংশ দেশের ভেতরেই ধরে রাখা। তাঁর মতে, প্রেইরি অঞ্চলের কৃষি সক্ষমতার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের পুঁজি, প্রযুক্তি ও উৎপাদন দক্ষতা মিললে জাতীয় গুরুত্বের কিছু গড়ে তোলা সম্ভব।
এই ফলাফল এমন সময়ে এল, যখন কানাডার কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা কৌশলের মাধ্যমে দেশে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে, যাতে বিদেশি সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরতা কমে। প্রোটিন ইন্ডাস্ট্রিজ কানাডা বলছে, গবেষণাটি তাদের ‘মেক ইট হিয়ার’ প্রচারণার পক্ষে যুক্তি জোগায়, যেখানে বিনিয়োগ, অবকাঠামো, আধুনিক নিয়মকানুন, সমন্বিত কর্মসূচি ও বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর দাবি করা হচ্ছে।
শস্য ও তেলবীজ চাষিদের জন্য এর অর্থ হলো, দেশে বেশি মাড়াই ও প্রক্রিয়াজাত কারখানা হলে খামারের কাছেই বেশি ক্রেতা পাওয়া যাবে।
সূত্র: Farms.com





মন্তব্য
(০)