আধা-শুষ্ক অঞ্চলের ফসল নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ICRISAT (ইক্রিস্যাট)-এ ১২ ও ১৩ অক্টোবর বাজরার উন্নত প্রজনন উপকরণ যাচাই ও বাছাই করেছেন ৮০ জন বিজ্ঞানী। তাঁরা এসেছিলেন ভারত, আফ্রিকা, জাপানসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি বীজ কোম্পানি থেকে। প্রতিষ্ঠানটি ৩১ অক্টোবর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে।
দুই বছর পরপর হওয়া এই মাঠ দিবসে ১৬ হাজার প্লটে প্রজনন উপকরণ দেখানো হয়, যার মধ্যে ৮ হাজার বি-লাইন, ৮ হাজার আর-লাইন এবং ২ হাজার পশুখাদ্যের লাইন। বিজ্ঞানীরা খরা ও তাপ সহনশীলতা, রোগ প্রতিরোধ, আগাম পাকা, দানার মান ও পশুখাদ্য হিসেবে গুণ যাচাই করেন। বেশি আমিষ, ব্রাউন মিডরিব বৈশিষ্ট্য ও মিষ্টি কাণ্ডের সারিও দেখা হয়, কারণ এগুলো খাদ্য, পশুখাদ্য ও জৈববস্তুর বাজারে নতুন ব্যবহারের সুযোগ দেয়।
এর কিছুদিন আগে ইক্রিস্যাট ও ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ (আইসিএআর) আরএইচবি ২৭৩ নামে একটি হাইব্রিড অবমুক্ত করে। তাদের ভাষায় এটি বিশ্বের প্রথম থ্রি-ওয়ে বাজরা হাইব্রিড। ভারতের কম বৃষ্টির এ১ অঞ্চলের জন্য তৈরি এই জাতে ফলন, খরা সহনশীলতা ও ভালো পশুখাদ্যের গুণ একসঙ্গে আছে।
মাঠ দিবসের উদ্বোধনে ইক্রিস্যাটের মহাপরিচালক Himanshu Pathak (হিমাংশু পাঠক) কৃষকের চাহিদা ও বদলে যাওয়া বাজারের সঙ্গে মিল রেখে গবেষণার ওপর জোর দেন। বাজরা প্রজননের প্রধান বিজ্ঞানী SK Gupta (এস কে গুপ্ত) জানান, ২০২৪ সালের মাঠ দিবসের মতামত থেকেই দানার রং, খরা সহনশীলতা, ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধ ও পশুখাদ্যের মান উন্নয়নের কাজ এগিয়েছে। ফসল উন্নয়ন কর্মসূচির পরিচালক Raman Babu (রমন বাবু) হাইব্রিড প্যারেন্টস রিসার্চ কনসোর্টিয়ামের ভূমিকার কথা বলেন, যার মাধ্যমে বীজ কোম্পানিগুলো হাইব্রিড উন্নয়নে যুক্ত থাকে।
অংশগ্রহণকারীরা খাটো ও আগাম পাকা মাতৃ-পিতৃ সারির সুপারিশ করেন, যাতে গাছ কম হেলে পড়ে এবং যন্ত্রে ফসল কাটা সহজ হয়। এতে শ্রম খরচ কমতে পারে। ইক্রিস্যাট বলছে, ফরোয়ার্ড ও শাটল প্রজনন পদ্ধতিতে তারা খরাপ্রবণ এলাকার জন্য বেশি উপযোগী উপকরণ তৈরি করেছে। কাজটি আইসিএআর ও শিল্প অংশীদারদের সঙ্গে চলা মিলেট ও প্রাচীন শস্যের আন্তর্জাতিক গবেষণা উদ্যোগ মহর্ষির অংশ।
লক্ষ্য হলো ভারত, আফ্রিকা ও অন্যান্য শুষ্ক অঞ্চলের কৃষকের জন্য এমন জাত ও হাইব্রিড, যা বেশি ফলন দেবে, ভালো দাম আনবে এবং গবাদিপশুর জন্য ভালো খাদ্যও জোগাবে।
ছবি: लोकपंचायत संगमनेर (Lokpanchayat Sangamner) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ইক্রিস্যাট





মন্তব্য
(০)