চাকরির পেছনে না ছুটে পড়াশোনার পাশাপাশি পেঁপে চাষ ও নার্সারি গড়ে তুলেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আকরাম আলী। দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর এলাকার এই তরুণ চলতি বছর দুই ধাপে ৪৩ শতাংশ জমিতে ৪৮০টি পেঁপেগাছ লাগিয়েছেন।
প্রথম ধাপে ২৫ শতাংশে ৩০০টি টপলেডি জাতের চারা, দ্বিতীয় ধাপে ১৮ শতাংশে আরও ১৮০টি। প্রথম ধাপে খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। এপ্রিলের মাঝামাঝি লাগানো গাছ থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পেঁপে তোলা শুরু হয়েছে। বাজারদর এখন তুলনামূলক কম হলেও পুরো মৌসুমে প্রায় আড়াই লাখ টাকার পেঁপে বিক্রির আশা করছেন তিনি। গাছগুলো আগামী বছরও ফল দিলে আয় আরও ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা বাড়তে পারে।
শুরুটা অবশ্য সহজ ছিল না। গত বছর প্রায় ১৮ শতাংশ জমিতে প্রথমবার চাষ করে আশানুরূপ ফলন ও লাভ পাননি। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার জমি বাছাই, চারা রোপণ, সার, সেচ ও পরিচর্যায় বিশেষ নজর দিয়েছেন। আকরাম বলেন, পেঁপে চাষে সবচেয়ে জরুরি উপযুক্ত জমি, কারণ জলাবদ্ধতা গাছের জন্য ক্ষতিকর। পানি নিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থা ও নিয়মিত রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ দরকার।
পেঁপের পাশাপাশি নার্সারিতে দেশি-বিদেশি ফল ও ফুলের চারাও তৈরি করছেন তিনি, পরিচর্যা ও সেচে সহযোগিতা করেন বাবা-মা। আকরামের ভাষ্য, তাঁর বাগান দেখে কয়েকজন নতুন করে পেঁপে চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তবে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ, কৃষি পরামর্শ, প্রযুক্তি ও সরকারি সহায়তা বাড়ানো জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খাইরুল ইসলাম পলাশ বলেন, অনেক কৃষকের আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা নেই। শিক্ষার্থীরা গবেষণালব্ধ জ্ঞান কৃষিতে কাজে লাগালে খাতটি আরও এগোবে।
ছবি: Judgefloro / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪





মন্তব্য
(০)