আফ্রিকার পুষ্টিকর ও জলবায়ু সহনশীল দেশি ফসলগুলো এখনো অবহেলিত, অথচ মহাদেশের লাখো মানুষ ক্ষুধায় ভুগছে। এই ফসলকে লাভজনক খাদ্যপণ্যে রূপ দেওয়ার সবচেয়ে বড় সুযোগ তরুণেরা, এমনটাই বলেছেন ইয়াং প্রফেশনালস ফর অ্যাগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্টের (YPARD) এক ওয়েবিনারের বক্তারা। দক্ষিণ আফ্রিকার ফুড ফর মজানসিতে খবরটি লিখেছেন ওলওয়াম মনিয়ান্দে (Olwam Mnyande)।
"আজ উদ্ভাবন, কাল পুষ্টি" শিরোনামের এই আলোচনায় মূল্য শৃঙ্খল, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারে প্রবেশ, পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তার কথা ওঠে। প্যান আফ্রিকান ফার্মার্স অর্গানাইজেশনের (PAFO) প্রধান নির্বাহী ড. বাবাফেমি ওয়েওলে (Babafemi Oyewole) দেশি ও কম ব্যবহৃত ফসলের মূল্য শৃঙ্খলে কাজ শুরুর আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, "আফ্রিকা কৃষি জীববৈচিত্র্যের ভান্ডারের ওপর বসে আছে, আর লাখো মানুষ ক্ষুধা, অপুষ্টি ও বেকারত্বে ভুগছে।"
আফ্রিকান ইউনিয়ন উন্নয়ন সংস্থার (AUDA-NEPAD) জ্যেষ্ঠ কর্মসূচি কর্মকর্তা ড. মানিয়েউ মুতাম্বা (Manyewu Mutamba) জানান, আফ্রিকার সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন কর্মসূচি (CAADP) ক্ষুধা, অপুষ্টি ও দারিদ্র্য দূর করার বাইরে আফ্রিকার ভেতরের বাণিজ্য তিন গুণ করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকির মুখে সহনশীলতা গড়ার লক্ষ্যও নিয়েছে।
খাদ্য, কৃষি ও প্রাকৃতিক সম্পদ নীতি বিশ্লেষণ নেটওয়ার্কের (FANRPAN) ড. র্যাচেল এমকান্দাওয়াইরে (Rachel Mkandawire) বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় নানা রকম দেশি ও প্রথাগত খাবার আছে, তবে গবেষণা, উৎপাদন ও বাজারের দিক থেকে সেগুলো ভিন্ন ভিন্ন পর্যায়ে। এর মধ্যে জোয়ার সবচেয়ে প্রতিষ্ঠিত: দীর্ঘ দিনের চাষ ও খাওয়ার ইতিহাস আছে, গবেষণা ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সক্ষমতাও আছে।
দেশি খাবার নিয়ে গবেষণা করা অ্যাগ্রো ফুড হেরিটেজ ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা এজিনে সারাহ ওতিসি (Ezinne Sarah Otisi) তরুণ কৃষকদের দেশি ফসল চাষ ও সংরক্ষণের আহ্বান জানান; তাঁর মতে এসব খাবারে ভিটামিন, আমিষ, আঁশ, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি। মিটলেস মানডে উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত সেন্টার ফর কমিউনিটি ইমপ্যাক্টের এনেলে জুলু-এনদ্লোভু (Enele Zulu-Ndlovu) বলেন, শহরে দেরিতে বাড়ি ফেরা কর্মজীবীরা প্রায়ই রান্নার বদলে ফাস্ট ফুড কেনেন, যা স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার পথে বড় বাধা।
ছবি: Asimbahwe Gratien and CubeMEDIA CM / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ফুড ফর মজানসি





মন্তব্য
(০)