দক্ষিণ আফ্রিকার উটপাখি খামারে যান্ত্রিক প্লাকার ও প্লায়ার্স দিয়ে জীবন্ত পাখির পালক তোলা হয়, যাকে নিষ্ঠুর ও যন্ত্রণাদায়ক বলছে প্রাণিকল্যাণ সংগঠনগুলো। ওয়ার্ল্ড অ্যানিমেল প্রোটেকশন ও কালেক্টিভ ফ্যাশন জাস্টিসের নতুন এক অনুসন্ধানের বরাতে এ খবর দিয়েছে ফার্মিংপোর্টাল।
‘ব্লাড ফেদারস’ নামের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কর্মীরা উটপাখিকে কোণঠাসা করে মাথায় ব্যাগ পরিয়ে ব্যথানাশক ছাড়াই পালক কেটে টেনে তোলেন। সংগঠনগুলোর দাবি, কিছু খামার রক্তপ্রবাহ থাকা বাড়ন্ত পালক রক্তরেখার ওপরে কেটে পরে গোড়া প্লায়ার্সে টেনে তোলে এবং কোনো কোনো পাখির ক্ষেত্রে প্রতি ছয় মাসে তা করা হয়। দাঁড়াতে না পারা আহত পাখি এবং ঠোকরের ক্ষতের কথাও বলা হয়েছে।
বিশ্বের উটপাখি বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশ দক্ষিণ আফ্রিকার, যেখানে মাংস, চামড়া ও পালক উৎপাদন হয়। সংগঠনগুলোর দাবি, খামার ও প্রক্রিয়াকরণ কারখানাগুলো ওয়াইএসএল, লুই ভিতোঁ, ডিওর, শ্যানেল ও শিনের মতো ব্র্যান্ডে পালক সরবরাহ করেছে, আর এই তথ্য ‘পালক ঝরার সময় সংগ্রহ করা হয়’ দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের তথ্য উদ্ধৃত করে ওয়ার্ল্ড অ্যানিমেল প্রোটেকশন জানায়, ২০২৪-২৫ মৌসুমে ১৫০ টনের বেশি উটপাখির পালক রপ্তানি হয়েছে এবং পালক, মাংস ও চামড়ার জন্য প্রায় দেড় লাখ উটপাখি জবাই হয়েছে।
সংগঠনটির প্রচারণা ব্যবস্থাপক অলিভিয়া চার্লটন বলেন, "পালকই এখন নতুন পশম।" বিশ শতকের শুরুতে সোনা, হীরা ও উলের পর উটপাখির পালক ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার চতুর্থ বৃহত্তম রপ্তানি পণ্য। প্রতিবেদনে উল্লিখিত খামার বা ব্র্যান্ডগুলোর বক্তব্য নেই।
ছবি: Michael Day / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: FarmingPortal




মন্তব্য
(০)