২০ অক্টোবর বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস, আন্তর্জাতিক অস্টিওপোরোসিস ফাউন্ডেশনের (আইওএফ) উদ্যোগে প্রতিবছর পালিত হয়। হাড়ের ঘনত্ব কমে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যাওয়ার এই রোগে শুরুতে সাধারণত কোনো লক্ষণ থাকে না; অনেকে সামান্য আঘাতে হাড় ভাঙার পর জানতে পারেন। দিবস উপলক্ষে আইওএফের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিরোধের করণীয় তুলে ধরেছে আমার দেশ।
বিশ্বে আনুমানিক ২০ কোটি মানুষ অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত। আইওএফের তথ্য অনুযায়ী, ৫০ বছরের বেশি বয়সী প্রতি তিন নারীর একজন এবং প্রতি পাঁচ পুরুষের একজন জীবদ্দশায় এ রোগজনিত হাড় ভাঙার শিকার হতে পারেন। সাধারণত বিশের দশকের মাঝামাঝি হাড়ের ঘনত্ব সর্বোচ্চ হয়, পরে বয়সের সঙ্গে কমতে পারে।
ঝুঁকির কারণের মধ্যে আছে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও ভিটামিন ডির ঘাটতি; মেনোপজের সময় ও পরে ইস্ট্রোজেন কমে যাওয়া; বয়সের সঙ্গে পেশি দুর্বল হওয়া (সারকোপেনিয়া), যাতে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে; শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, ধূমপান ও মদ্যপান; এবং দীর্ঘদিন কর্টিকোস্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ সেবন।
করণীয়: দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ডাল, সয়াবিন, বাদামের মতো ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া; নিরাপদভাবে রোদ ও খাবার থেকে ভিটামিন ডি নেওয়া, ঘাটতির আশঙ্কায় চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা; হাঁটা, সিঁড়ি ভাঙা ও ভার বহনকারী ব্যায়ামের সঙ্গে ভারসাম্যের অনুশীলন; ধূমপান বাদ দেওয়া। মেনোপজের কাছাকাছি নারী বা পরিবারে হাড় ভাঙার ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে ডেক্সা স্ক্যানে হাড়ের ঘনত্ব মাপা যায়। বয়স্কদের জন্য বাথরুমে হাতল, পিছলে না যাওয়া মেঝে আর পর্যাপ্ত আলো রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
যা করবেন না: দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকবেন না; চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডির সম্পূরক খাবেন না; কর্টিকোস্টেরয়েডসহ কোনো ওষুধ নিজে থেকে বন্ধ করবেন না; আর দীর্ঘস্থায়ী হাড়ের ব্যথা, চেয়ার থেকে উঠতে কষ্ট বা হাঁটার গতি কমার মতো লক্ষণ উপেক্ষা করবেন না।
আইওএফের মতে বড় ঘাটতি হলো, সামান্য আঘাতে হাড় ভাঙার পর জরুরি চিকিৎসা মিললেও অনেক সময় হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা বা অস্টিওপোরোসিসের চিকিৎসা শুরু হয় না। এ জন্য সংস্থাটি হাসপাতালভিত্তিক 'ফ্র্যাকচার লিয়াজোঁ সার্ভিসেস' চালুর ওপর জোর দেয়, যাতে হাড় ভাঙার পর রোগীর ঝুঁকি মূল্যায়ন ও পরবর্তী চিকিৎসা নিশ্চিত হয়।
ছবি: James Heilman, MD / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: আমার দেশ





মন্তব্য
(০)