আয়ারল্যান্ডের অফালি কাউন্টির বার এলাকার জৈব গাজরচাষি ফিলিপ ড্রেপার (Philip Draper) ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে গাজর চাষ করছেন। অ্যাগ্রিল্যান্ডকে তিনি বলেন, জলবায়ু বদলের ধাক্কা সামলানোর মতো ব্যবসা গড়তে বিপুল বিনিয়োগ লাগে। এ বছর পার্থক্য গড়েছে সেচ: ফসলে যথেষ্ট পানি দিতে পেরেছেন বলেই সময়মতো তোলা শুরু হয়েছে, সেচ না থাকলে বৃদ্ধি পিছিয়ে যেত, মানও খারাপ হতো।
সুপারমার্কেটের চাহিদা অনুযায়ী ধাপে ধাপে গাজর তোলা হয়, একবারে নয়। তাই তোলার যন্ত্র, পাতা কাটার যন্ত্র ও ট্রাক্টর মাসের পর মাস মাঠেই থাকে, যাতে অল্প সময়ের নোটিশে কাজ শুরু করা যায়। ড্রেপার বলেন, আবহাওয়া একটু সুযোগ দিলেই দ্রুত মাঠ পার হতে পারে এমন ভালো যন্ত্র দরকার। খারাপ আবহাওয়াতেও অর্ডার মেটাতে তাঁর প্রতিষ্ঠান কুলনাগ্রোয়ার অ্যাগ্রি স্বল্পমেয়াদি মজুতাগারে বিনিয়োগ করেছে।
মৌসুম চলে সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ, তাই সারা বছর স্থায়ী কর্মী রাখতে হয়। কঠিন পরিস্থিতিতে দামি যন্ত্র চালাতে পারেন এমন দক্ষ লোক পাওয়া সহজ নয়। শীতে ভেজা মাটির সমস্যা বরাবরই ছিল, সাম্প্রতিক গ্রীষ্মের খরা নতুন সমস্যা যোগ করেছে। ড্রেপারের ভাষায়, আগের মতো সহজ নেই, এখন ফসল ফলাতে অনেক বেশি খরচ।
আয়ারল্যান্ডে বাণিজ্যিক গাজরচাষি টিকে আছেন মাত্র নয়জন। ড্রেপার দায় দেন খুচরা দামের চাপকে: ক্রেতা টানতে সুপারমার্কেটগুলো লোকসানে সবজি বেচতে শুরু করে, তাতে গাজরের দাম পড়ে গেছে। তিনি ২০২৫ সালে গঠিত আইরিশ ক্যারট গ্রোয়ার্স ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্য, যারা দেশটির খুচরা বাজারের ৯৫ শতাংশ গাজর সরবরাহ করে এবং নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সমস্যা নিয়ে কাজ করে।
তিনি বলেন, যাঁরা টিকে আছেন তাঁদের কাজের ন্যায্য মূল্য পাওয়া দরকার, কারণ ঝুঁকি বিশাল। ২০২৬ সাল লাভের বছর হবে কি না, এখনো বলা যাচ্ছে না, তবে এ পর্যন্ত তোলার আবহাওয়া ভালো।
ছবি: phot0geek / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Agriland




মন্তব্য
(০)