পেটেন্টমুক্ত জেনেরিক বালাইনাশকের প্রতিযোগিতায় ব্রাজিলের ফসল সুরক্ষার বাজারে দাম পড়ছে, চাপে পড়েছে বড় সরবরাহকারীরা। ছয়টি বহুজাতিক কৃষি রাসায়নিক কোম্পানির ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফলে এই চিত্র উঠে এসেছে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে এফএমসি (FMC Corporation)। আগের বছরের ৫৪ কোটি ২২ লাখ ডলার থেকে আয় ৮০ শতাংশ কমে হয়েছে ১০ কোটি ৫৯ লাখ ডলার, নিট লোকসান প্রায় ২০৭ কোটি ডলার। ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও আর্জেন্টিনায় পরিবেশকদের হাতে থাকা মজুতের দাম সমন্বয়ে ক্ষতি হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি ডলার। উত্তর আমেরিকার নতুন মূল্য কাঠামোয় আলাদা করে ৫০ কোটি ডলারের প্রভাব পড়েছে। কোম্পানি বলছে, ব্রাজিলের সমন্বয় কেবল পরিবেশকদের কাছে থাকা মজুতে, বর্তমান বিক্রয়মূল্যে নয়।
সিনজেন্টা গ্রুপ (Syngenta) জানায়, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরে ব্রাজিলে বিক্রি কমেছে ৬ শতাংশ, লাতিন আমেরিকার বাকি অংশে ১৪ শতাংশ। আদামা (ADAMA) ৮৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার আয়ে সাড়ে ১১ কোটি ডলার নিট লোকসান করেছে। কারণ হিসেবে তারা বলছে দামের চাপ, খামারিদের নগদের সংকট ও জেনেরিক প্রতিযোগিতার কথা। বিএএসএফের কৃষি বিভাগের বিক্রি ১৯.৭ শতাংশ কমে হয়েছে প্রায় ১৫৭ কোটি ডলার, যার একটি কারণ দ্বিতীয় প্রান্তিকে আগেভাগে বিক্রি। ইউপিএলের বালাইনাশক বিভাগের আয় কমেছে ৮ শতাংশ, ব্রাজিলসহ লাতিন আমেরিকায় আবহাওয়ার ব্যাঘাত ও পিছিয়ে যাওয়া বিক্রির কথা বলছে তারা।
খামারিদের সিদ্ধান্তও এর অংশ। বাণিজ্য সংগঠন ক্রপলাইফ ব্রাজিল জানায়, ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ মৌসুমে অসনদপ্রাপ্ত সয়াবিন ও তুলা বীজের জমি বেড়েছে ২১০ শতাংশ। নিজের রাখা বা নকল, এমন অসনদপ্রাপ্ত সয়াবিন বীজে এখন চাষ হচ্ছে ৯৬ লাখ হেক্টর, মোট সয়াবিন জমির প্রায় ২০ শতাংশ।
সংগঠনটির তথ্যে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে জৈব উপকরণের আয় ২১.৫ শতাংশ কমে হয়েছে ১০ কোটি ৭০ লাখ রিয়াল। অথচ ইনোকুলেন্ট ব্যবহৃত জমি ৩৮.৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৯৪ লাখ হেক্টর।
মন্দার মধ্যেও নতুন পণ্যের অনুমোদন থামেনি। কৃষি মন্ত্রণালয় ২৮ অক্টোবর ৭৮টি বালাইনাশক নিবন্ধনের অনুমতি দিয়েছে। ৪ নভেম্বর প্রকাশিত আরেকটি আদেশে রয়েছে ১৪টি আবেদন, এর মধ্যে অণুজীবভিত্তিক ছত্রাকনাশক, কীটনাশক, কৃমিনাশক ও একটি ফেরোমনভিত্তিক পণ্য।
ছবি: Marevarzeamt / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার





মন্তব্য
(০)