যুক্তরাষ্ট্রে কৃষকেরা বিশেষ সরকারি সহায়তা কত পাবেন এবং তা বন্ধ হলে কী হবে, সেই অনিশ্চয়তাই ঘুরেফিরে এসেছে আমেরিকান ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের কৃষি ব্যাংকার সম্মেলনে। বক্তারা ঋণদাতাদের পরামর্শ দিয়েছেন, এই সহায়তা ছাড়া ঋণগ্রহীতার অবস্থা কেমন দাঁড়ায়, তা যাচাই করে দেখতে।
২০১৮ সাল থেকে বাণিজ্য বিঘ্ন, মহামারি, পণ্যের কম দাম ও এখন জ্বালানির দামের কারণে মার্কিন কৃষকেরা বিশেষ সহায়তা পেয়েছেন ১৪ হাজার কোটি ডলার। শুধু এ বছরই এসেছে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের ফার্মার ব্রিজ অ্যাসিস্ট্যান্স। এরপর হারভেস্ট ফুয়েল রিলিফ কর্মসূচিতে আরও ৮০০ কোটি ডলারের ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন।
সংগঠনটির বার্ষিক জরিপে প্রায় ৫০ শতাংশ ঋণদাতা বলেছেন, তাঁদের ঋণগ্রহীতাদের নিট আয়ের ২৫ শতাংশ বা তার বেশি সরাসরি সরকারি অর্থের ওপর নির্ভরশীল। এক বছর আগে একই কথা বলেছিলেন ৩০ শতাংশ। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মনে করেন, ২০২৭ সালে এই নির্ভরতা আরও বাড়বে। প্রায় ৮০ শতাংশ বলেছেন, অনুমোদিত না হলে সম্ভাব্য সহায়তাকে তাঁরা ঋণ যাচাইয়ের হিসাবে ধরেন না।
কৃষিঋণ কর্মকর্তাদের পরামর্শক ও শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার স্যাম মিলার (Sam Miller) বলেন, এই সহায়তা কৃষকের নগদপ্রবাহ ও ব্যাংকের ঋণের মান ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। কিন্তু এটি বন্ধ হলে সামনের পথ কঠিন হবে।
ব্যাংকাররা বলছেন, ২০২৭ সালের ফসল শস্যচাষিদের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল হতে পারে, এই উদ্বেগ এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে। ওহাইওর এলসিএনবি ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রধান ঋণ কর্মকর্তা জেফ মিকার (Jeff Meeker) প্রশ্ন তোলেন, জ্বালানি, সার ও অন্য উপকরণ মিলিয়ে ২০২৭ কেমন হবে।
পারডিউ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতিবিদ ট্রে ম্যালোন (Trey Malone) ঋণদাতাদের বলেন, সবচেয়ে বড় ২৫টি পরিচালন ঋণ সরকারি সহায়তা ছাড়া যাচাই করে দেখতে। দেরিতে অর্থ আসা বা বণ্টনের নিয়ম বদলানোও ঋণগ্রহীতার হিসাব এলোমেলো করতে পারে। এই সহায়তা কোনো বছর নগণ্য, কোনো বছর ২ হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত হয়েছে। তাঁর মতে, অর্থ আসবে না তা নয়, তবে আগের মতো থাকবে না। ঋণ শোধের সক্ষমতা বিচারে জমির দামের ওপর ভরসা না করার পরামর্শও দেন তিনি।
মঙ্গলবারের নির্বাচন অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। ভার্জিনিয়া টেকের ইমেরিটাস অধ্যাপক ডেভিড কোহল (David Kohl) মনে করেন, ডেমোক্র্যাটরা সহায়তা ও ভর্তুকিতে কিছু পরিবর্তনের চেষ্টা করবেন, তবে হঠাৎ বড় নীতি বদলের আশা না করতে বলেছেন।
প্রতিবেদক: ক্রিস ক্লেটন, ডিটিএন।
ছবি: inkknife_2000 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: DTN / Progressive Farmer





মন্তব্য
(০)