নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শৌলমারী সুনগর গ্রামে বাড়ির পাশের প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে কফি, রামবুটান, কোকো, ড্রাগন ও প্যাশন ফলসহ দেশি-বিদেশি ফলের বাগান গড়েছেন খাদিজা আক্তার। খরচ বাদে এ বাগান থেকে বছরে তাঁর আয় সাড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা, জানিয়েছে বাসস।
২০১৪ সালে স্বামী নজরুল ইসলামের মৃত্যুর পর কৈমারী বাজারে তাঁর রেখে যাওয়া স্টেশনারি ব্যবসা আর সংসার একাই সামলেছেন খাদিজা, দুই ছেলেকে পড়িয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত। কৃষিতে নামেন ২০১৮ সালে: কফি পছন্দ করতেন বলে বড় ছেলের পরামর্শে বাড়ির পাশের পতিত জমি পরিষ্কার করে পাশের কিশোরগঞ্জ উপজেলা থেকে অ্যারাবিকা কফির চারা এনে লাগান। পরে একে একে যোগ হয় রামবুটান, কোকো, ড্রাগন ও প্যাশন ফল; তিন বছরের মধ্যে গাছে ফল আসে।
এখন তিন বিঘায় কফি আর দুই বিঘায় রামবুটান, ড্রাগন, প্যাশন ফল, কোকোসহ নানা ফলের গাছ। বাড়ির প্রবেশপথে মাচায় প্যাশন ফলের লতা, এক পাশে পুকুর, আঙিনায় আম, লিচু, তেঁতুল, তেজপাতার গাছ; পাশাপাশি চলছে রঙিন মাছের পোনা উৎপাদন। প্রায় ছয় বছর ধরে কফি বাজারজাত করছেন তিনি, আর গত বছর কেজি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা দরে প্রায় ৪০০ কেজি রামবুটান বিক্রি করেছেন।
খাদিজা জানান, বাগানের সব গাছ ফল দিতে শুরু করলে আয় আরও বাড়বে। ব্যবসা আর বাগান একসঙ্গে করতে গিয়ে অনেক কটু কথা শুনতে হয়েছে, তবু পিছু ফেরেননি। নারী কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে একাধিক পুরস্কারও পেয়েছেন। তাঁকে দেখে গ্রামের অনেকে বাড়িতে দেশি-বিদেশি ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. হোমায়রা মন্ডল বলেন, কৃষি বিভাগ বিভিন্ন সময় খাদিজাকে পরামর্শ, উপকরণ, চারা ও যন্ত্রপাতি দিয়ে সহযোগিতা করেছে, আর তাঁকে দেখে এলাকার অন্য নারী-পুরুষেরাও উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।
প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসের নীলফামারী প্রতিনিধির।
ছবি: Afifa Afrin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: বাসস





মন্তব্য
(০)