নিউজিল্যান্ডের লিংকন ইউনিভার্সিটি ম্যাককেইন ফুডস নেক্সটজেন রিজেনারেটিভ ফার্মে মাটির সেন্সর আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত কৃষি পরামর্শ প্ল্যাটফর্ম দেবে ডিজিটাল কৃষি প্রতিষ্ঠান ক্রপএক্স (CropX)। আট বছরের এই গবেষণায় পুরো একটি আলুর ফসল-আবর্তনে পুনরুৎপাদনশীল ও প্রচলিত চাষের তুলনা করা হবে, জানিয়েছে প্রিসিশনঅ্যাগের গ্লোবাল অ্যাগ টেক ইনিশিয়েটিভ।
গবেষকেরা দেখবেন চাষের পদ্ধতি মাটির স্বাস্থ্য, ফসলের ফলন, পানি ও পুষ্টির ব্যবহার, সহনশীলতা আর দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনশীলতায় কী প্রভাব ফেলে। আবর্তনের প্রতিটি ফসলে বসানো হবে ক্রপএক্সের অ্যাপেক্স মাটির আর্দ্রতা প্রোব, ফসলভেদে ৬০ বা ৯০ সেন্টিমিটার গভীরে; এর পাঠের সঙ্গে মেলানো হবে আবহাওয়ার তথ্য, প্রকৃত বাষ্পীভবন-প্রস্বেদনের মাপ আর উপগ্রহচিত্র। প্ল্যাটফর্মটি জমির অংশভেদে আলাদা মাত্রার সেচে সহায়তা করবে, দুই পদ্ধতির মাটির আর্দ্রতার পার্থক্য সঙ্গে সঙ্গে দেখাবে, আর রোগের আগাম সতর্কতা দিয়ে স্প্রের সময় ঠিক করতে সাহায্য করবে।
ম্যাককেইনের অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড কৃষি পরিচালক জশ ওপাস (Josh Opas) বলেন, পানির দক্ষ ব্যবহার আর সঠিক মাত্রায় সেচ ফসলের মান, ফলন ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। লিংকন ইউনিভার্সিটির খামার বিভাগের প্রধান অধ্যাপক অ্যালিসন বেইলি (Alison Bailey) বলেন, এত বড় গবেষণা বহু বছরের নিরবচ্ছিন্ন, মানসম্মত তথ্যের ওপর নির্ভর করে। ক্রপএক্স টেকনোলজিসের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এইতান দান (Eitan Dan) বলেন, পুনরুৎপাদনশীল কৃষির বড় অগ্রগতি আসবে বাস্তব খামারের পরিস্থিতিতে তৈরি বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থেকে।
ম্যাককেইন ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের জন্য আলু উৎপাদনের সব জমিতে পুনরুৎপাদনশীল চর্চা চালুর অঙ্গীকার করেছে। এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রদর্শনী খামার স্থানীয় পরিস্থিতিতে সেই চর্চা যাচাই করে ফল চাষিদের জানানোর জন্য। ক্রপএক্স জানিয়েছে, তাদের ব্যবস্থা ৫০টির বেশি দেশে ব্যবহার হচ্ছে।
দক্ষিণ এশিয়াসহ যেকোনো অঞ্চলের আলুচাষি, যেখানে সেচের খরচ আর পানির টান লাভ কমিয়ে দেয়, তাঁদের জন্য পুরো আবর্তনজুড়ে মাটির আর্দ্রতা মাপার এমন পরীক্ষাই দেখাতে পারে কোনো পদ্ধতি ফলন না কমিয়ে পানি বাঁচায় কি না।
ছবি: Christianjhart1 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: প্রিসিশনঅ্যাগ





মন্তব্য
(০)