নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার আদর্শনগরে প্রতি মঙ্গলবার বসে হাঁসের ডিমের হাট। একদিনে বেচাকেনা হয় প্রায় আট থেকে ১০ লাখ ডিম। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হিসাবে, প্রতি হাটে লেনদেন প্রায় কোটি টাকা।
ভোর থেকে মদন, খালিয়াজুড়ী, মোহনগঞ্জ এবং পাশের সুনামগঞ্জের খামারি ও ব্যবসায়ীরা সপ্তাহজুড়ে জমানো ডিম নিয়ে আসেন। ক্যারেটে সাজানো ডিম বিকেলের মধ্যে ট্রাকে করে যায় ঢাকার তেজগাঁও, খিলগাঁও ও খিলক্ষেতের পাইকারি বাজারে। বিক্রেতা হালিক খানের মতে, গোছানো এই বাজারের কারণে খামারিরা সঠিক দাম পান।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যে, নেত্রকোনায় ১,০৭৬টি বাণিজ্যিক হাঁসের খামার আছে, আর প্রায় ৪৯ হাজার ৭৮৮টি পরিবার বা ক্ষুদ্র খামারি হাঁস পালনে যুক্ত। বছরে প্রায় ৪১ কোটি ৭০ লাখ ডিম উৎপাদিত হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৬২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
তবে ঝুঁকিও আছে। পাইকার জামাল হোসেন বলেন, দূরের হাওর থেকে ডিম সংগ্রহ, শ্রমিকের মজুরি আর দীর্ঘ পথে ডিম ভাঙার ঝুঁকি সামলাতে হয়। পরিবহন ব্যয় বাড়লে বা দাম ওঠানামা করলে লাভ কমে, তবে সারা বছর চাহিদা থাকায় ব্যবসা চলছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, হাওরের জলাশয় হাঁসের জন্য প্রাকৃতিক খাদ্য ও অনুকূল পরিবেশ দেয়। খাদ্যের খরচ কমানো, দ্রুত পরিবহন ও কোল্ড চেইন গড়ে তোলা গেলে এই খাত আরও অনেক বাড়বে।
প্রতিবেদন: মির্জা হৃদয় সাগর, নেত্রকোনা।
সূত্র: একাত্তর টিভি




মন্তব্য
(০)