ইংল্যান্ডের প্রথম প্রস্তাবিত পরিবেশ বাস্তবায়ন পরিকল্পনা (Environmental Delivery Plan, ইডিপি), নরফোকের জন্য তৈরি, সমালোচনার মুখে পড়েছে। কৃষক সংগঠন, আইনজীবী ও পরিবেশবিদদের অভিযোগ, এর একক হারের ফি সেই বেসরকারি বাজারকে ছোট করে দিতে পারে যেখানে জমির মালিকেরা আবাসন নির্মাতাদের কাছে পুষ্টি দূষণ প্রশমনের সুবিধা বিক্রি করেন।
২০২৫ সালের পরিকল্পনা ও অবকাঠামো আইনে আসা ইডিপিতে নির্মাতারা আলাদা আলাদা প্রকল্পের জন্য পুষ্টি ক্রেডিট না কিনে প্রতিটি বাড়ির জন্য ন্যাচারাল ইংল্যান্ডকে (Natural England) একটি প্রকৃতি পুনরুদ্ধার ফি দিতে পারবেন। সেই টাকায় বড় পরিসরে সংরক্ষণের কাজ হবে। নির্মাণাধীন ১৬টি পুষ্টি ইডিপির মধ্যে নরফোকেরটি প্রথম পরামর্শের জন্য প্রকাশ হলো। এটি ব্রডস, ব্রডল্যান্ড রামসার এলাকা ও ওয়েনসাম নদীতে নাইট্রোজেন ও ফসফরাস দূষণ নিয়ে। প্রস্তাবে আছে ১০৯ হেক্টর জলাভূমি (ফেন) তৈরি ও পুনরুদ্ধার, ৩৯৫ হেক্টর জমির ব্যবহার বদল (বেশির ভাগই চাষ থেকে সরিয়ে), ১৬২ হেক্টর জলাভূমি ব্যবস্থাপনা এবং ৩,৭০০ হেক্টরে হরিণ নিয়ন্ত্রণ। উদ্দেশ্য সর্বোচ্চ ১৫,৭৮০টি বাড়ি নির্মাণের পথ খোলা। যেকোনো আকারের বাড়ির জন্য ফি ২,৬৭৫ পাউন্ড, সূচক সমন্বয় ও ভ্যাট ছাড়া।
নয়টি আঞ্চলিক দলে ৬৫০-এর বেশি কৃষকের নেটওয়ার্ক এনভায়রনমেন্টাল ফার্মার্স গ্রুপের (ইএফজি) হিসাবে বেসরকারি বাজারে বাড়িপ্রতি পুষ্টি প্রশমনের খরচ সাধারণত ৩,৫০০ থেকে ৯,০০০ পাউন্ড। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গ্রিনশ্যাংক এনভায়রনমেন্টালের হিসাবে তা ২,৫০০ থেকে ১০,০০০ পাউন্ড। ইএফজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডিগবি সোয়ারবি বলেন, এতে বেসরকারি বাজার মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অথচ সরকার সেই বাজারকেই সমর্থন করতে চায়।
জমির মালিকদের সংগঠন সিএলএ আইন প্রণয়নের সময়ই প্রকৃতি বাজারে ইডিপির প্রভাব, পরিচালন খরচ ও বাধ্যতামূলক অধিগ্রহণের ঝুঁকি নিয়ে আপত্তি তুলেছিল। একটি আইন প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা ও অধিগ্রহণ দলের পরিচালক ম্যাথিউ টাকার বলেন, একক হার বাজারে নতুন টানাপোড়েন তৈরি করছে, আর পরিকল্পনাটির অর্থ ঘাটতির মৌলিক ঝুঁকি আছে।
আরএসকে ওয়াইল্ডিংয়ের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যালেক্সা কালভারের মতে পুরো ইডিপি ব্যবস্থা থামিয়ে জরুরি পর্যালোচনা দরকার। চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব ইকোলজি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী স্যালি হেইনস বলেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ সরাসরি পুষ্টি দূষণ কমায় বলে মনে হচ্ছে, বাকিটা ক্ষতিপূরণনির্ভর।
পরামর্শ চলবে ২৮ কর্মদিবস, শেষ হবে মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ৯টা ২৯ মিনিটে। ইএফজির আশঙ্কা, এই ফি কিছু অববাহিকায় কৃষকদের হাতে নেওয়া পুষ্টি প্রকল্পগুলোকে বড় ধাক্কা দেবে। পরের ইডিপিগুলোর কোনো সময়সূচি না থাকায় বিদ্যমান বাজার এরই মধ্যে অনিশ্চয়তায় পড়েছে বলেও জানায় সংগঠনটি।
ফার্মার্স উইকলির হয়ে প্রতিবেদনটি করেছেন সুজি হর্ন।
ছবি: Northmetpit / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Farmers Weekly





মন্তব্য
(০)