জলবায়ু পরিবর্তন, ঘূর্ণিঝড় ও সমুদ্রের তীব্র ঢেউয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারার পারকি সমুদ্রসৈকত ভয়াবহ ভাঙনের মুখে। দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দেড় দশকে প্রায় এক কিলোমিটার ঝাউবন সাগরে বিলীন হয়েছে; সঙ্গে আছে দূষণ, দখল আর প্রশাসনিক গাফিলতি। সংকুচিত বেলাভূমি জোয়ারের সময় পুরো পানির নিচে চলে যায়।
সৈকত রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেলা জিও টিউব ও জিও ব্যাগ এখন পর্যটকদের জন্য বিপদ হয়ে উঠেছে। এগুলোর কারণে সৈকতে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে, ভাটায় সেখানে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে থাকে, ছড়িয়ে আছে ভাঙা স্থাপনার কংক্রিট। জিও ব্যাগের স্তরে আটকে থাকে প্লাস্টিক ও বর্জ্য, অথচ সতর্ক করার কোনো সাইনবোর্ড নেই।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালের আম্ফান, ২০২১ সালের ইয়াস, ২০২২ সালের সিত্রাং, ২০২৩ সালের মোখা আর ২০২৪ সালের রেমালের প্রভাবে আনোয়ারা উপকূলের বেড়িবাঁধ, বসতবাড়ি, কৃষিজমি, মাছের ঘের, সড়ক-বাজার ও সৈকতে ব্যাপক ভাঙন হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আনোয়ার বলেন, ময়লা ফেলা, গাছ ধ্বংস আর উদাসীনতায় পারকির প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য হারিয়ে যাচ্ছে।
আনোয়ারার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু জাফর মজুমদার বলেন, জিও টিউব ও ব্যাগ ব্যবহার হচ্ছে নদী রক্ষার নকশায়, অথচ দরকার সমুদ্র রক্ষার নকশা; এতে সাময়িকভাবে কিছুটা বালুক্ষয় ঠেকছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. শফিউল আলম বলেন, প্রতিবছর কোটি কোটি টাকায় জিও ব্যাগ ভরা হলেও তা ফেটে অকার্যকর হচ্ছে। তাঁর মতে ম্যানগ্রোভ বনায়ন ভালো উদ্যোগ হলেও পর্যটনকেন্দ্র বলে পুরো সৈকতে তা সম্ভব নয়, বিকল্প হতে পারে ভারতের তামিলনাড়ু বা কর্ণাটকের মতো আধুনিক গ্রোয়েন বাঁধ।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক মনিরা পারভিন সতর্ক করেছেন, পরিকল্পিত উপকূলীয় সুরক্ষা নীতি না নিলে পারকির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা অচিরেই সমুদ্রে হারিয়ে যেতে পারে, আর সমুদ্রঘেঁষা বেড়িবাঁধের কিছু জায়গা এখনই ঝুঁকিতে।
স্থায়ী সুরক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ৫৪৮ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের ‘পারকি সি-বিচ সংরক্ষণ’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর আওতায় প্রায় ৩ কিলোমিটার উপকূল সংরক্ষণ, বাঁধ নির্মাণ ও তীর রক্ষার কাজ হবে, যাতে সুরক্ষা পাবে সৈকত, কর্ণফুলী টানেলের সংযোগ সড়ক, বসতি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। প্রকল্পের নকশা তৈরির কাজ চলছে। পারকি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. কাশেম জানান, ভাঙনে পর্যটক ও ব্যবসা দুটোই কমছে।
ছবি: Azim Al Jabber / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)