গ্রামবাংলার জলাশয়ের পাড়ে জন্মানো দুধকচু নিয়ে দেশ রূপান্তরে একটি প্রকৃতিবিষয়ক লেখা লিখেছেন এক কৃষিবিদ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ। এ বছরের ২৮ ভাদ্র নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের জিন্দা পার্কে জলাশয়ের পাড়ে ফোটা দুধকচুর ফুল দেখে তিনি রবীন্দ্রনাথের ‘অধিকার’ কবিতার কথা মনে করেছেন, যেখানে বকুল, পলাশ আর গোলাপের বড়াইয়ের জবাবে কচু মাটির নিচে তার দখল দেখিয়ে জিতে যায়।
লেখক জানিয়েছেন, ডাঁটা কাটলে সাদা দুধের মতো কষ ঝরে বলেই এর নাম দুধকচু বা দুধমান কচু, বৈজ্ঞানিক নাম Xanthosoma sagittifolium। গোড়ায় মাটির নিচে মুখীর মতো কন্দ হয় বলে কোথাও একে মুখীকচু বা দুধমুখীকচুও বলে; পাবনায় এর নাম মৌলভী কচু, আর লেখকের ছোটবেলায় এর ডগা চিংড়ি দিয়ে রান্না হতো ‘দস্তাকচুর ডগা’ নামে। বিশাল তীরের ফলার মতো পাতার জন্য ইংরেজি নাম অ্যারোলিফ এলিফ্যান্ট ইয়ার।
পাতার ফলক ৬০ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার লম্বা, অগ্রভাগ সুচালো। পাতা ও ডাঁটার রং হালকা দুধেল সাদাটে-সবুজ, পাতার ওপরে মোমের মতো আবরণ। টাঙ্গাইল সদরের খাকজানা গ্রামে বিলের ঢালে লেখক এমন দুধকচু দেখেছেন, যা তাঁর চেয়ে প্রায় দেড় গুণ লম্বা। বাগেরহাটের ফকিরহাট ও সাতক্ষীরার তালায় তিনি কালচে বেগুনি শিরা ও ডাঁটার একটি ধরন দেখেছেন, স্থানীয় নাম সুরমাকচু, যার ডাঁটা কাটলেও দুধের মতো কষ ঝরে।
অ্যারেসি পরিবারের অন্য গাছের মতো দুধকচুর ফুলও ফোটে মোচার মতো একটি খোলসের ভেতরে দণ্ডাকার পুষ্পমঞ্জরিতে, যাকে উদ্ভিদবিজ্ঞানে বলে স্পাইক। খোলস ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা, নিচের অংশ সবুজ ও নলাকার, ওপরের অংশ ঘিয়া-সাদা বা ক্ষীরবর্ণ। ফুলগুলো ক্ষুদ্র, পাপড়িহীন ও একলিঙ্গী: স্পাইকের ওপরের দিকে পুরুষ ফুল, নিচে স্ত্রী ফুল।
পরাগায়ন করে পোকামাকড়; তাদের টানতে পুষ্পমঞ্জরি থেকে তীব্র গন্ধ বের হয়। নিষেকের পর ছোট, হলুদ, গোলাকার ফল ধরে। ফুল ফোটে ও ফল ধরে মে থেকে অক্টোবরে, আর মাটির নিচের কন্দ থেকে নতুন চারা জন্মায়। আমেরিকা আদি নিবাস হলেও দুধকচু এখন আমাদের বুনো ও আবাদি গ্রামীণ উদ্ভিদ।
ছবি: Jeevan Jose, Kerala, India / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)