কেনিয়ার নান্দি কাউন্টির একটি ক্ষুদ্র কৃষকদের কফি সমবায় মোবাইল ফোন আর বিনা মূল্যের একটি ওপেন সোর্স অ্যাপ দিয়ে সদস্যদের ১,৬২১টি কফি খামারের মানচিত্র তৈরি করেছে। সেই তথ্য দিয়েই তারা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের দেখিয়েছে, এসব জমির কোথাও বন উজাড় হয়নি। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও এই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে।
টোরোটন ফার্মার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটির (Toroton Farmers' Cooperative Society) কাছে সদস্যদের শত শত ছোট খামারের কোনো ডিজিটাল মানচিত্র ছিল না। ২০২৫ সালের মে মাসে নতুন ট্রেসেবিলিটি বা উৎস শনাক্তের নিয়মে ক্রেতারা কফি কোন জমিতে ফলেছে তার স্থানাঙ্ক চাইতে শুরু করবেন, এমন অবস্থা তৈরি হয়। সমবায়ের পরিচালনা পর্ষদ আশঙ্কা করছিল, কফি হয়তো আর বিক্রিই করা যাবে না। বছরের পর বছর কৃষকদের কফি ওজন করে আসা কেরানি পিটার কিবেট (Peter Kibet) সে মাসেই এফএওর এআইএম৪ফরেস্টস কর্মসূচির মাধ্যমে ওপেন ফরিস গ্রাউন্ড (Open Foris Ground) অ্যাপের সঙ্গে পরিচিত হন। অ্যাপটি এফএও ও গুগল মিলে তৈরি করেছে।
সমবায়টি এলাকার ১৩ জন তরুণকে কাজে নেয়। তাঁরা ফোন হাতে খামারে খামারে হেঁটে প্রতিটি জমির সীমানা, ফলন, কফির জাত, সাথি ফসল আর পোকার সমস্যার তথ্য লিখে রাখেন। ছয় সপ্তাহে ১,৬২১টি খামারের মানচিত্র তৈরি হয়ে যায়। এরপর কিবেট সেগুলো ওপেন ফরিস হুইস্প (WHISP) দিয়ে যাচাই করেন, যা জমির অবস্থান বন ও ভূমি ব্যবহারের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে। একটি খামারও চিহ্নিত হয়নি। ক্রেতারা প্রমাণ চাইলে সমবায়টি তা হাতে হাতে দিতে পেরেছে এবং তাদের বাজার টিকে আছে।
এই তথ্য শুধু নিয়ম মানার কাজেই লাগেনি। জরিপে কৃষকেরা সার পেতে সমস্যার কথা জানিয়েছেন, কফির যত্নে পরামর্শ চেয়েছেন, কোন সেবা দরকার তা বলেছেন। তথ্য শুরু থেকেই সমবায়ের নিজের হওয়ায় তারা সঙ্গে সঙ্গে সম্প্রসারণ সেবা দিতে পেরেছে। কিবেট বলেন, ওপেন ফরিস থেকে পাওয়া তথ্য দিয়ে তাঁরা কৃষকদের প্রয়োজন বুঝতে পারছেন।
শিগগিরই আশপাশের সমবায়গুলো সাহায্য চাইতে শুরু করে। জুলাইয়ের শেষ নাগাদ কৃষক থেকে কৃষকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ১১১ জন ক্ষুদ্র কৃষক ও সমবায় প্রতিনিধি খামারের মানচিত্র তৈরি করেন। নান্দির অংশ নেওয়া সমবায়গুলোতে প্রায় ২,০০০ কফি খামার মানচিত্রে উঠেছে। কেনিয়ার ৭০ শতাংশের বেশি কফি উৎপাদন করেন সমবায়ে সংগঠিত ক্ষুদ্র কৃষকেরা।
হেঁটে মাপার দরকার ছিল, কারণ স্যাটেলাইট অনেক কিছু দেখতে পায় না। ছায়াগাছের নিচে কফি চাপা পড়ে যায়, ছোট খামার আশপাশের গাছপালার সঙ্গে মিশে যায়। কেনিয়া স্পেস এজেন্সি ২০২৫ সালে জানায়, স্যাটেলাইট চিত্রে দেশের মাত্র প্রায় ৩০ শতাংশ কফি খামার শনাক্ত হয়েছে। এফএওর এই কাজে অর্থ দিচ্ছে যুক্তরাজ্য ও জার্মানির সরকার। যেসব ক্ষুদ্র কৃষক এমন বাজারে কফি, কোকো বা অন্য পণ্য বেচেন যেখানে এখন উৎসের প্রমাণ চাওয়া হয়, তাঁদের জন্য টোরোটনের উদাহরণ দেখায় যে কাজটি কম খরচে এবং কৃষকের নিজের হাতে রেখেই করা যায়।
ছবি: Kamweti wa Mutu / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: এফএও নিউজরুম





মন্তব্য
(০)