গাছ নিজেই সারাক্ষণ বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরি করে, আর সেই সংকেত শুনে প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে আগে ফসলের চাপ শনাক্ত করার প্রযুক্তি তৈরি করছে ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রিটিশ স্টার্টআপ মাইকোভোল্ট (Mycovolt)। যুক্তরাজ্যে আলুতে মাঠপরীক্ষার পর প্রতিষ্ঠানটি এখন এশিয়ার ধানচাষিদের সঙ্গে কাজ করতে চায়। সিঙ্গাপুরে এশিয়া প্যাসিফিক অ্যাগ্রি-ফুড সামিটে অ্যাগনেভিগেটরকে এ কথা জানান প্রতিষ্ঠাতা স্যাম জেলার্ড (Sam Jellard)।
জেলার্ড বলেন, তাঁরা গাছের বৈদ্যুতিক সংকেতের ভাষা পড়ার চেষ্টা করছেন। ব্যবস্থাটিতে আছে নিজস্ব যন্ত্র, যা গাছের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ রেকর্ড করে, আর সফটওয়্যার, যা সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে। যুক্তরাজ্যের অ্যাডভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড ইনভেনশন এজেন্সি আরিয়া (ARIA) থেকে প্রতিষ্ঠানটি ২৩ লাখ পাউন্ড (৩৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার) গবেষণা তহবিল পেয়েছে এবং প্রযুক্তিটি এখন পরীক্ষাগার থেকে মাঠে নিচ্ছে।
ডাইসন ফার্মিং রিসার্চসহ যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যিক খামারিদের সঙ্গে প্রথম মাঠপরীক্ষা হয়েছে আলুতে খরা শনাক্ত নিয়ে, কারণ আলু পানির ঘাটতিতে খুব সংবেদনশীল। জেলার্ডের ব্যাখ্যা, মাটির আর্দ্রতা সেন্সর জানায় খেত শুকনো, কিন্তু গাছ নিজে চাপে আছে কি না, তা বলতে পারে না। পেটেন্টের আবেদন চলায় পদ্ধতির বিস্তারিত তিনি জানাননি, শুধু বলেছেন এটি গাছের কোনো ক্ষতি না করা ও জৈবভাবে সহনীয় পদ্ধতি। গবেষণায় সাধারণত গাছের টিস্যুতে ইলেকট্রোড ঢোকানো হয়, যা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চলে কিন্তু বড় পরিসরে কঠিন এবং মোটা কাণ্ডের ফসলেই সীমিত। মাইকোভোল্ট বলছে, তাদের পদ্ধতি ফসলের আকারে আটকায় না, তাই দানাশস্য ও ধানেও চলবে।
ধানে বড় সুযোগ দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। বৈদ্যুতিক সংকেতের তথ্য দিয়ে রোগ ও অন্যান্য সমস্যা কীভাবে চেনা যায়, তা বুঝতে তারা এশিয়ার চাষি ও শিল্পের অংশীদার খুঁজছে, শুরু করতে চায় ব্লাস্ট রোগ দিয়ে, যা ধান উৎপাদনকারী অঞ্চলে এখনো বড় ক্ষতি করে। জেলার্ড বলেন, সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো অ্যালগরিদমকে শেখানো, চাপের কারণটি আসলে কী। মাইকোভোল্ট খরা আর আলুর মড়কসহ রোগের চাপ নিয়ে কাজ করেছে, পরের ধাপে খুঁজবে নির্দিষ্ট রোগজীবাণুর আলাদা সংকেত। তাঁর ভাষায়, তাঁরা শুধু ধানের চাপ ধরতে চান না, শেষ পর্যন্ত বলতে চান সেটি ব্লাস্ট, ব্লাইট নাকি অন্য কোনো রোগ।
দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য লক্ষ্যভিত্তিক ফসল সুরক্ষা: লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই কৃষককে জানানো খেতের কোন অংশ চাপে আছে, যাতে শুধু সেখানেই ওষুধ দিয়ে উপকরণ খরচ ও পরিবেশের ক্ষতি কমানো যায়। যেখানে ব্লাস্ট বারবার ফিরে আসে, এশিয়ার সেই ধানচাষিদের জন্য এমন আগাম সতর্কতা কাজের হবে, যদি তাঁদের খেতেও এটি টিকে যায়।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন অ্যাগনেভিগেটরের অ্যামান্ডা লিম।
ছবি: Jonathan Thacker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)