সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ৩ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৯°মূলত পরিষ্কারআর্দ্রতা ৭২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

কালচার্ড মাংস কতটা নিরাপদ, হালাল কি না: প্রমাণ এখনো সামান্য, প্রশ্ন অনেক

কালচার্ড মাংস খেলে ক্ষতি হয়, এমন কোনো প্রকাশিত গবেষণা নেই, আবার এটি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত তা-ও প্রমাণিত হয়নি; গবেষকেরা বলছেন, দূষণ, কালচার মাধ্যমের অবশেষ আর হালাল প্রশ্নই ভোক্তার আস্থা ঠিক করবে।

কালচার্ড মাংস কতটা নিরাপদ, হালাল কি না: প্রমাণ এখনো সামান্য, প্রশ্ন অনেক
এগ্রোটেক

পরীক্ষাগারে প্রাণিকোষ থেকে চাষ করা মাংস, অর্থাৎ কালচার্ড মাংস যত বাজারের কাছে আসছে, শিল্পটির সামনে তত বড় হয়ে উঠছে নিরাপত্তা প্রমাণের প্রশ্ন। ফুডনেভিগেটর জানিয়েছে, কালচার্ড মাংস খেলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়, এমন কোনো প্রকাশিত গবেষণা এখনো নেই। আবার এটি পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত, তা-ও প্রমাণিত হয়নি। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের ২০২৫ সালের একটি ব্রিফিংয়ে দেখা যায়, কালচার্ড মাংস খাওয়ার প্রভাব সরাসরি পরীক্ষা করা কোনো পিয়ার-রিভিউড গবেষণা নেই।

২০১৩ সালে নেদারল্যান্ডসের মাসট্রিখট বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্ক পোস্টের (Mark Post) দল প্রথম কালচার্ড গরুর মাংসের বার্গার দেখিয়েছিল, খরচ পড়েছিল ৩ লাখ ২৫ হাজার ডলার। গুড ফুড ইনস্টিটিউটের হিসাবে ২০২৫ সালের শেষে বিশ্বে ১৪০টির বেশি কোম্পানি কালচার্ড মাংস, সামুদ্রিক খাবার বা সংশ্লিষ্ট উপকরণ তৈরি করছিল। তাদের পদ্ধতিও আলাদা: অ্যালেফ ফার্মস স্টেকের মতো টুকরার জন্য উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের কাঠামো ব্যবহার করে, আপসাইড ফুডস কাঠামো ছাড়াই মুরগির কোষ চাষ করে, আর গুড মিট সিরামমুক্ত মাধ্যম তৈরি করেছে।

ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর ফুড সেফটির নীতি পরিচালক জেডি হ্যানসন (Jaydee Hanson) বলেন, কালচার্ড মাংসের নিরাপত্তা অনেকটাই নির্ভর করে কী চাষ করা হচ্ছে তার ওপর। পোল্যান্ডের পোজনান ইউনিভার্সিটি অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসের গবেষক পিওতর জিমস্কি (Piotr Rzymski) সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো তুলে ধরেন: কোষ চাষের সময় জীবাণু দূষণ, যা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল দিয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে দূর করা যায় না, এবং চূড়ান্ত পণ্যে কালচার মাধ্যমের উপাদানের অবশেষ। প্রচলিত মাংসের সঙ্গে পুষ্টিগুণের পার্থক্যও স্পষ্ট লেবেলে জানানো দরকার হতে পারে।

বোস্টনের ভিরিও অ্যাডভাইজার্সের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ পরামর্শক কিম্বারলি অং (Kimberly Ong) মনে করেন, কোষ যেহেতু কড়া নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় জানা উপকরণে বেড়ে ওঠে, তাই দূষণ বা মাধ্যমের অবশেষের মতো ঝুঁকি প্রচলিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতেই শনাক্ত ও মূল্যায়ন করা যায়। তবে প্রতিটি পণ্যের আলাদা নিরাপত্তা মূল্যায়ন লাগবে।

হালাল প্রশ্নটি আলাদা। জিমস্কি বলেন, শুরুর কোষ জীবিত প্রাণী থেকে নাকি হালালভাবে জবাই করা প্রাণী থেকে নেওয়া, আর ভ্রূণের গোবৎস সিরাম, প্রাণিজ গ্রোথ ফ্যাক্টর ও কাঠামোর ব্যবহার, এসব হালাল শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। নিরাপদ প্রমাণিত হলেই কোনো পণ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালাল হয় না। তাঁর দল প্রস্তাব করেছে 'হালাল-বাই-ডিজাইন' পদ্ধতি: প্রাণিজ উপাদানমুক্ত মাধ্যম, একই ধরনের সনদ মানদণ্ড, আর শুরু থেকেই বিজ্ঞানী, নিয়ন্ত্রক ও ইসলামি পণ্ডিতদের যুক্ত করা। ইন্দোনেশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মতো বাজারে এটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তাঁরা।

সবচেয়ে কঠিন হতে পারে আস্থা অর্জন। অস্ট্রেলিয়ার ডিকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গি লিয়েম (Gie Liem) ১,৫৪০ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর জরিপ করে দেখেছেন, ঝুঁকির ধারণার চেয়ে সুবিধার ধারণা গ্রহণযোগ্যতায় বেশি প্রভাব ফেলে, আর শুধু বৈজ্ঞানিক তথ্য বাড়িয়ে ভোক্তার মন জয় করা কঠিন। যে প্রাণিসম্পদ খামারিরা প্রযুক্তিটির দিকে নজর রাখছেন, তাঁদের জন্য বার্তা হলো, এর বাজারে পৌঁছানোর পথ পরীক্ষাগার ছাড়াও নিয়ন্ত্রক, সনদদাতা আর ক্রেতার আস্থার মধ্য দিয়ে যায়।

ছবি: World Economic Forum / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

সূত্র: FoodNavigator

FoodNavigatorসূত্র

এগ্রোটেক

সম্পর্কিত খবর

এগ্রোটেক

গাছের বৈদ্যুতিক সংকেত পড়ে ফসলের চাপ ধরবে সেন্সর, এবার এশিয়ার ধানে নজর

ব্রিটিশ স্টার্টআপ মাইকোভোল্টের সেন্সর গাছের নিজের তৈরি বৈদ্যুতিক সংকেত রেকর্ড করে লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই খরা ও রোগের চাপ শনাক্ত করে; যুক্তরাজ্যে আলুতে পরীক্ষার পর তারা ব্লাস্ট রোগ নিয়ে এশিয়ায় অংশীদার খুঁজছে।

AgNavigator৩ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

কৃষকের আস্থা ছাড়া কৃষি উদ্ভাবন ছড়ায় না, বললেন এশিয়া প্যাসিফিক সম্মেলনের বক্তারা

ইরির মহাপরিচালক এবং র‍্যাভেন্সডাউন, টিঅ্যান্ডজি গ্লোবাল, ইয়ারা ও চায়না অ্যাগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির নেতারা বলেছেন, পরীক্ষক কৃষকের নেটওয়ার্ক, ভাগাভাগি করা পরীক্ষার খরচ আর বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানই নতুন প্রযুক্তি ক্ষুদ্র কৃষকের কাছে নেয়।

AgNavigator৩ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্যামেরা ধরবে সয়াবিনের হেলে পড়া ও ক্ষতি, স্মার্ট স্কাউট

হাতে বহন বা স্প্রেয়ারে বসানো যায় এমন এআই ক্যামেরা ব্যবস্থা স্মার্ট স্কাউট সয়াবিন খেতে হেলে পড়ার ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করবে; কোয়াডের এআই-এনগেজ উদ্যোগের প্রথম ছয় প্রকল্পের একটি এটি।

কৃষি জাগরণ৩ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)