কৃষিতে নতুন বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুত তৈরি হচ্ছে, অথচ বাণিজ্যিক পরিসরে কৃষকের কাছে পৌঁছাচ্ছে সামান্যই, আর এর মূল ঘাটতি আস্থা। সিঙ্গাপুরে এশিয়া প্যাসিফিক অ্যাগ্রি-ফুড সামিটের একটি আলোচনায় বক্তারা এ বিষয়ে একমত হন বলে জানিয়েছে অ্যাগনেভিগেটর। আলোচনা পরিচালনা করেন আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ইরির (IRRI) মহাপরিচালক ড. ইভন পিন্টো (Yvonne Pinto)। তিনি বলেন, বিশ্বের ক্ষুধার্ত মানুষের ৪০ শতাংশ এখনো এশিয়া প্যাসিফিকে, আর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ক্ষুদ্র কৃষকদের বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার অর্থায়ন দরকার, অথচ এখন আসছে তার এক-তৃতীয়াংশেরও কম।
নিউজিল্যান্ডের কৃষক মালিকানাধীন সমবায় র্যাভেন্সডাউনের (Ravensdown) প্রধান উদ্ভাবন কর্মকর্তা এবং অ্যাগনিশন ভেঞ্চার্সের প্রধান নির্বাহী জ্যাসপার ভ্যান হাল্ডার (Jasper van Halder) আস্থাকে সবচেয়ে বড় ফাঁক বলেছেন। তাঁর কথায়, কৃষক নিজের জমি, পশু আর ফসল নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চান, সম্মেলনে যাওয়া বা পত্রিকা পড়ার সময় তাঁদের নেই। তাঁরা বিশ্বস্ত পরামর্শকের কাছে যান, আর সবচেয়ে বেশি দেখেন প্রতিবেশী কী করেছেন। র্যাভেন্সডাউন কয়েক শ পরীক্ষক কৃষকের একটি নেটওয়ার্ক গড়েছে, যাঁরা বাস্তব অবস্থায় নতুন প্রযুক্তি চালিয়ে দেখেন, আর সমবায় তাঁদের হয়ে প্রযুক্তি খুঁজে আনে।
চায়না অ্যাগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির অ্যাকাডেমি অব গ্লোবাল ফুড ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিসির ডিন ফান শেংগেন (Fan Shenggen) বলেন, চীনের জরিপে দেখা যায়, সরকারি ও বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানই এখনো তথ্যের সবচেয়ে বিশ্বস্ত উৎসগুলোর মধ্যে। ক্ষুদ্র কৃষকের কাছে প্রযুক্তি নিতে কোম্পানিগুলোকে নীতিনির্ধারক ও বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এনভি জাতের আপেলের জন্য পরিচিত তাজা ফল ও সবজির প্রতিষ্ঠান টিঅ্যান্ডজি গ্লোবালের (T&G Global) প্রধান নির্বাহী গ্যারেথ এজকম্ব (Gareth Edgecombe) জানান, তাঁরা গরম ও পানির ঘাটতিতেও ভালো ফলন দেয় এমন আপেল উদ্ভাবন করেছেন। কিন্তু বিচ্ছিন্নতার কারণে তা ছড়ানো কঠিন: অনেক ক্ষুদ্র কৃষকের পরীক্ষা চালানোর টাকা নেই, ভোক্তার বাজার থেকেও তাঁরা অনেক দূরে। তাই টিঅ্যান্ডজি যৌথ পরীক্ষার মডেল নিয়েছে, যেখানে খরচ অনেকে ভাগ করেন, আর উদ্ভাবন থেকে আয় শুরু হলে তবেই চাষি দাম দেন।
ইয়ারা ইন্টারন্যাশনালের বৈশ্বিক উন্মুক্ত উদ্ভাবনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মারিসা সোয়ারেস (Marisa Soares) একে কাঠামোগত সমস্যা বলেছেন, যার সমাধানে অনেক পক্ষের সম্মিলিত আস্থা দরকার। উদাহরণ হিসেবে তিনি বিশ্বব্যাংক ও কেনিয়ার সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় কেনিয়ায় ইয়ারার মাটির স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি অ্যাক্সিলারেটরের কথা বলেন, আর চীনের ক্ষুদ্র কৃষি ব্যবস্থার কথা, যেখানে আস্থা শুরু হয় সরকারের স্পষ্ট কৌশল থেকে।
এশিয়াজুড়ে ক্ষুদ্র কৃষকের কাছে কথাটি চেনা: নতুন বীজ, সেন্সর বা উপকরণ ছড়ায় তখনই, যখন প্রতিবেশী, সম্প্রসারণ কর্মী বা গবেষণা কেন্দ্র দেখিয়ে দেন যে এটি কাজ করে।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন অ্যাগনেভিগেটরের অ্যামান্ডা লিম।
ছবি: IRRI Images / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)