আলুর জমিতে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি রাসায়নিক সার ব্যবহার কমাতে মুন্সীগঞ্জে উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। সুপারিশমতো সার দিলে চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৩৯ হাজার ৫৪ মেট্রিক টন সার সাশ্রয় হতে পারে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩১২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিবেদনে এই হিসাব উঠে এসেছে।
জেলায় প্রতিবছর ৩৪ থেকে ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলু হয়। বেশি ফলনের আশায় কৃষকেরা হেক্টরে গড়ে প্রায় ২ দশমিক ১১ মেট্রিক টন রাসায়নিক সার দেন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সুপারিশ অনুযায়ী প্রায় ৯৭০ কেজিই যথেষ্ট। সে হিসাবে মৌসুমে জেলায় দরকার ৩২ হাজার ৯৮০ মেট্রিক টন, ব্যবহার হচ্ছে প্রায় ৭২ হাজার ৩৪ মেট্রিক টন।
কৃষি বিভাগের নির্দেশনায় হেক্টরে ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি ইউরিয়া, ১৫০ থেকে ২০০ কেজি টিএসপি, ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি এমওপি, ১০০ থেকে ১৫০ কেজি জিপসাম এবং ১০ টন কম্পোস্ট ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ, উঠান বৈঠক ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষকদের এ পথে আনার চেষ্টা চলছে।
উপপরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান জানান, জেলার ২০৬টি ব্লকে ‘খামারি অ্যাপ’-এর মাধ্যমে সুষম সার ব্যবহারের প্রদর্শনী বসানো হচ্ছে। প্রতিটি ব্লক থেকে মাটির নমুনা নিয়ে মোট ৮৪৭টি নমুনা পরীক্ষার জন্য মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।
তাঁর ভাষায়, বাড়তি সারে উৎপাদন খরচ বাড়ে এবং মাটির পুষ্টির ভারসাম্য ও দীর্ঘমেয়াদি উর্বরতা ক্ষতির মুখে পড়ে। মাটির পুষ্টি বিবেচনায় পরিমিত সার দিলে খরচ কমিয়েও ভালো ফলন ধরে রাখা সম্ভব। কৃষি বিভাগের আশা, বেশি সার দিলেই ফলন বাড়ে এই ধারণা থেকে কৃষকদের বের করে আনা গেলে মুন্সীগঞ্জের আলু উৎপাদন আরও টেকসই হবে।
ছবি: sakib454590 / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪




মন্তব্য
(০)