যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনে কৃষি প্রতিবেদন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা স্থগিত হয় এবং ছোট খামারের জরিপ বন্ধ হয়ে যায়। সেই ফাঁক পূরণে ফসলের অবস্থা, আবাদি জমি ও ফসল তোলার হিসাব রাখতে স্যাটেলাইট ছবির ব্যবহার শুরু করে নাসা হারভেস্ট। খবরটি জানিয়েছে ফার্মস ডট কম।
গবেষকেরা ঋতুভেদে গাছপালার ধরন দেখে শীতকালীন ফসল চিনেছেন। দানাশস্যের বৃদ্ধি একভাবে হয়, আর সরিষাজাতীয় রেপসিডের ফুল ফোটা স্যাটেলাইটে আলাদা ধরা পড়ে। হিসাব নির্ভুল করতে তাঁরা মানচিত্রের সঙ্গে পরিসংখ্যানগত নমুনা যাচাই যোগ করেন। ফসল তোলার মৌসুমে ছবির বদল দেখে আলাদা করা হয়েছে কোন খেতের ফসল তোলা হয়েছে।
ফল হলো, সরকার-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ৯৪.১ শতাংশ শীতকালীন ফসল তোলা হয়েছে, রুশ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ৮৭.৫ শতাংশ। না তোলা খেতগুলো ছিল মূলত দখলসীমার কাছে। নাসা হারভেস্টের দক্ষিণ এশিয়ার সহপ্রধান শবরীনাথ নায়ার (Shabarinath Nair) বলেন, দৃশ্যমান ক্ষতি দেখে বোঝা যেত না ফসল তোলা হয়েছে কি না; না তোলা অনেক খেতে গোলা বা আগুনের চিহ্নই ছিল না।
সরকার-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ২০২২ থেকে ২০২৩ সালে শীতকালীন গমের জমি প্রায় ৯ শতাংশ কমে, এরপর মোটামুটি স্থির থাকে। রুশ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ২০২৪ সালে কমেছিল প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, ২০২৫ সালে কিছুটা ফেরে, আর ২০২৬ সালে আগের বছরের চেয়ে ৪১ শতাংশ বেড়েছে।
২০২২ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত স্যাটেলাইটের হিসাব ইউক্রেনের সরকারি পরিসংখ্যানের ৫ শতাংশের মধ্যে ছিল, যা পদ্ধতির ওপর আস্থা বাড়িয়েছে। ফলাফল ইউক্রেনের পরিসংখ্যান দপ্তর, কৃষি মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং ইউরোপীয় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে ভাগ করা হয়েছে।
ছবি: MODIS Land Rapid Response Team, NASA GSFC / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: Farms.com





মন্তব্য
(০)