৮ থেকে ২৯ অক্টোবর মা ইলিশ রক্ষার ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক কলামে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক বিভাগীয় প্রধান মীর মোহাম্মদ আলী প্রশ্ন তুলেছেন: প্রশাসনের স্পিডবোট ফিরে গেলে রাতে নদী পাহারা দেবে কে? তাঁর উত্তর, নদীপাড়ের জেলে আর সচেতন মানুষ নিজেরাই। মতামত লেখকের নিজের।
লেখক মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাব তুলে ধরেছেন: ২০২২-২৩ অর্থবছরে রেকর্ড ৫ লাখ ৭১ হাজার টন ইলিশ ধরা পড়েছিল, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমেছে ৫ লাখ টনে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি নির্বিচারে জাটকা ও মা ইলিশ নিধনকে দেখছেন। গত বছরের নিষেধাজ্ঞায় ৩৭ জেলার ১৬৫ উপজেলার ৬ লাখ ২০ হাজার ১৪০টি জেলে পরিবার খাদ্যসহায়তা পেয়েছিল; এত বড় এলাকা আর অসংখ্য শাখানদী-চর অল্প কয়েকটি নৌযানে ২২ দিন দিনরাত পাহারা দেওয়া কার্যত অসম্ভব বলে তাঁর মত। চাঁদপুরে এক রাতেই ৫০ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ আর শিবচরে জালে আটকে মরা ডলফিন উদ্ধারের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।
জনগণের পাহারা কাজ করে, তার উদাহরণ দেশেই আছে বলে লেখকের দাবি। ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালে মৎস্য অধিদপ্তর ও ওয়ার্ল্ডফিশের ইকোফিশ প্রকল্পে অভয়াশ্রম-সংলগ্ন ১৩৬টি জেলে গ্রামে সহব্যবস্থাপনা চালু হয়, গঠিত হয় ৫৭৫টি ইলিশ সংরক্ষণ দল, নদী পাহারায় যুক্ত হন প্রায় ৪০০ প্রশিক্ষিত কমিউনিটি ফিশগার্ড। প্রকল্পের শেষ চার বছর, ২০১৬ থেকে ২০১৯, টানা বাম্পার ইলিশ হয়েছিল; কিন্তু প্রকল্প শেষে সে কাঠামো টেকেনি।
তাঁর প্রস্তাবগুলো হলো: প্রতিটি জেলে গ্রাম ও মাছঘাটে স্বেচ্ছাসেবী ‘ইলিশ পাহারা দল’, যারা দুর্গম চর ও শাখানদীতে পালা করে নজর রাখবে; হটলাইনে খবর পেলে নৌ পুলিশ বা কোস্টগার্ডের দ্রুত সাড়া, তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রেখে; নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই খাদ্যসহায়তা, পাহারাদারদের সম্মানী, স্বীকৃতি ও পরবর্তী সহায়তায় অগ্রাধিকার; আড়ত, বরফকল, সড়কপথের পরিবহন ও অবৈধ জালের দোকানেও নজরদারি।
সচেতনতায় ইউনিয়ন পরিষদ, শিক্ষার্থী, মসজিদের ইমাম ও স্থানীয় গণমাধ্যমকে যুক্ত করা এবং নিষেধাজ্ঞা শেষে ইউনিয়নভিত্তিক তথ্য প্রকাশের কথাও বলেছেন তিনি: কোথায় কত অভিযান হলো, কত অভিযোগ এল, কোথায় পাহারা কাজ করল। তাঁর মতে, নিষেধাজ্ঞা জেলের শত্রু নয়, ভবিষ্যৎ আয়ের বিনিয়োগ; আজ রক্ষা পাওয়া মা ইলিশই কাল অসংখ্য ইলিশ হয়ে জালে ফিরবে।
ছবি: Nurunnaby Chowdhury (Hasive) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0); মেঘনায় মাছ ধরার নৌকা
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)