সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরের পানি এ বছর দ্রুত কমে যাচ্ছে। কৃষকদের আশঙ্কা, এতে মৌসুমের আগেই বোরো ধান রোপণ করতে হবে, আর আগাম রোপণ করলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলহানির ঝুঁকি বাড়বে, উৎপাদনও কমবে। পানি ধরে রাখতে হাওরের নান্দিয়া খালের মুখে এখন অস্থায়ী বাঁধ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষকেরা জানান, আগের বছরগুলোতে ১৫ নভেম্বরের পরে হাওরে বীজ ধান বোনা হতো। এবার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় ১৫ নভেম্বরের মধ্যেই উপজেলার সব হাওরে বীজ বোনা শেষ হয়ে যাবে। মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত বছর জ্যৈষ্ঠ মাসে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে নান্দিয়া বাঁধ ভেঙে ৩৬০ ফুট লম্বা খাল হয়ে যায়, সেই পথেই এখন পানি বেরিয়ে যাচ্ছে।
হাওর উন্নয়ন কমিটির সদস্যরা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবীর কাছে সমস্যার কথা জানান। ইউএনও কমিটির সদস্যদের নিয়ে খালটি সরেজমিন দেখে খালের মুখে বাঁধের সম্ভাব্যতা যাচাই করেন। এরপর উপজেলা পরিষদ থেকে দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, আর পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ দিয়ে সহায়তার সিদ্ধান্ত নেয়।
বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সামায়ুন কবির জানান, শুক্রবার থেকে কাজ শুরু হয়েছে, দুই দিনে ৩৬০ ফুটের খালে ৩০০টি বাঁশের খুঁটি গাড়া হয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন। তাঁর হিসাবে পুরো কাজ শেষ করতে আরও প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাগবে।
স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, বাঁধটি দ্রুত শেষ হলে এবার নিরাপদে ও সঠিক সময়ে বোরো চাষ করা যাবে, ফসলহানির ঝুঁকি কমবে, উৎপাদন বাড়বে; হাওরের হাজারো কৃষক পরিবার এখন এই বাঁধের দিকে তাকিয়ে।
ইউএনও রিপামনি দেবী বলেন, মাটিয়ান হাওরের পানি দ্রুত কমছে, এ মৌসুমে পানি ধরে রাখতে উপজেলা পরিষদ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড খালটি বেঁধে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তাঁর কথায়, সঠিক সময়ে ধান রোপণ করা গেলে উৎপাদন ভালো হবে। প্রতিবেদনটি সমকালের তাহিরপুর প্রতিনিধির।
ছবি: তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)