সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ২৫ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬৮%বাতাস ৭ কিমি/ঘ

এল নিনোর খরা সামলাতে নিজের পশুখাদ্য আর জমানো পানিতে ভরসা জিম্বাবুয়ের কৃষকদের

জিম্বাবুয়েতে আসছে মৌসুমে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টির পূর্বাভাস। তিন কৃষক জানিয়েছেন, নিজের চাষ করা পশুখাদ্য, ইউরিয়া মেশানো খড় আর পানির মজুত দিয়ে কীভাবে তাঁরা উৎপাদন চালু রাখছেন।

এল নিনোর খরা সামলাতে নিজের পশুখাদ্য আর জমানো পানিতে ভরসা জিম্বাবুয়ের কৃষকদের
ফসল

জিম্বাবুয়ের আবহাওয়া বিভাগ (Meteorological Services Department) আসছে মৌসুমে সারা দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। লাভের অঙ্ক কমে এলেও দেশটির তিনটি ভিন্ন জেলার তিন কৃষক জানিয়েছেন, খরার ধাক্কা সামলে কীভাবে তাঁরা চাষ আর খামার চালু রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মাতাবেলেল্যান্ড সাউথ প্রদেশের এমবালাবালায় ৫ হেক্টরের রিনা ফার্ম (Reena Farm) চালান রেকোপান্টসোয়ে নারে (Rekopantsoe Nare)। তাঁর খামারে শূকর, গরু, ছাগল, ব্রয়লার আর দেশি মুরগি আছে, সঙ্গে টমেটো, বাঁধাকপি ও পেঁয়াজের চাষ। নারের কাছে এল নিনো কম চাষের কারণ নয়, বরং বুদ্ধি খাটিয়ে চাষের ডাক। তাঁর কথায়, "কৃষক হিসেবে আমাদের আগেভাগে পরিকল্পনা করতে হবে, এল নিনোর ভয়ে জড়সড় হলে চলবে না। বিপদের অপেক্ষা না করে আগেই প্রস্তুতি নিন।"

নারে বলেন, তাঁর "আসল বিমা" নিজের জমিতে ফলানো পশুখাদ্য: রিভার তেঁতুল গাছ, ব্র্যাকিয়ারিয়া ঘাস, ভেলভেট বিন, বরবটি জাতের কাউপি, শণ, জুনকাও ঘাস আর তুঁত গাছ। তাঁর মতে এসব খেয়ে গাভী ও মাদি পশুর দুধ বাড়ে। ফসল তোলার পর ভুট্টা, জোয়ার ও সূর্যমুখীর ডাঁটা আর চিনাবাদামের খোসা ও পাতা তিনি ফেলে দেন না, গুঁড়া করে ইউরিয়া দিয়ে শোধন করেন। ঝোলাগুড়, মোটা লবণ আর ইউরিয়া সার ওজন মেপে অনুপাতে মেশানো হয়। এভাবে প্রায় দেড় টন খাদ্য বানান তিনি, যা পরের মৌসুম পর্যন্ত গরুর শরীরের অবস্থা ধরে রাখে।

তাঁর দ্বিতীয় প্রস্তুতি পানি। ২০২৩ সালে বৃষ্টির গড়িয়ে যাওয়া পানি ধরতে তিনি খামারে চোঁয়ানো গর্ত খুঁড়েছিলেন, সেগুলো এখন ভরা। কাছের একটি বাঁধে সারা বছর পানি থাকে, নিজের একটি নলকূপও আছে। তাই উৎপাদন কমানোর ভয় তাঁর নেই; বৃষ্টি না হলে কম পানির ফসলে সরে যাবেন। অন্য কৃষকদেরও তিনি খরা সহনশীল কাউপি, সূর্যমুখী ও জোয়ার চাষের কথা ভাবতে বলছেন।

একই প্রদেশের উমজিঙ্গওয়ানে লিমুজিন জাতের গরু পালেন এনডুমিসো সিবান্ডা (Ndumiso Sibanda)। এ বছরের শুরুতে মাঠের আগুনে তাঁর গরুর চারণভূমি পুড়ে যায়। ১০০ হেক্টরের খামারে পশুগুলো এখন খোঁয়াড়ে রেখে খড়, শুকনো ডাঁটা আর মুরগির বিষ্ঠা মিশিয়ে টিকে থাকার মতো পরিমাণে খাওয়ানো হচ্ছে, আর মজুত ও আবহাওয়ার খবর দেখে পরিমাণ ঠিক করা হচ্ছে। সেচ দিয়ে জুনকাও ঘাসের আবাদ বাড়াচ্ছেন তিনি, বৃষ্টি এলে ল্যাবল্যাব শিম ও ভেলভেট বিন বুনবেন, আরও অন্তত একটি নলকূপ বসানোর পরিকল্পনাও আছে। এখনই পশু বিক্রি করছেন না, কারণ কঠিন মৌসুমের দুশ্চিন্তায় দাম পড়ে থাকার সম্ভাবনা বেশি।

মিডল্যান্ডস প্রদেশের গোয়েরু ইস্টে ক্লেভার মাতুতু (Clever Matutu) ১৫০ হেক্টরে ভুট্টা, সয়াবিন, আলু ও বাঁধাকপি চাষ করেন। তাঁর বাঁধের পানিতে ৩০০ হেক্টর সেচ দেওয়া যায়, টানা খরাতেও পাঁচ মৌসুম চলবে বলে তাঁর দাবি। তবে জমিই তাঁর সীমা: ভুট্টার আবাদ ৩০ থেকে ৭০ হেক্টরে নিতে চান তিনি। জ্বালানি ও সারের দাম বাড়ায় লাভ কমেছে, তাই উৎপাদন খরচ কমাতে উপকরণে ভর্তুকির জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকার পক্ষে প্রতিবেদনটি লিখেছেন ক্লেমেন্স মানিউকওয়ে।

ছবি: Nyasha l guzha / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা

ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকাসূত্র

ফসল

সম্পর্কিত খবর

ফসল

কারিগরি স্কুলের জন্য তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ, প্রতিবাদে বুড়িচংয়ের ২৪ কৃষক পরিবার

কুমিল্লার বুড়িচংয়ের হরিপুরে কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের জন্য বাছাই করা জমি তিন ফসলি; অধিগ্রহণ হলে ২৪টি পরিবার ভূমিহীন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা জানিয়ে পতিত জমিতে প্রতিষ্ঠানটি গড়ার দাবি তুলেছেন তাঁরা।

দৈনিক বাংলা২৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
এগ্রোবিজ

ভারতের উৎপাদন শঙ্কা আর চাহিদায় এশিয়ার বাজারে বাড়ছে চালের দাম

ভারতে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সেদ্ধ চাল টনপ্রতি ৩৮৭ থেকে ৩৯২ ডলার, ভিয়েতনামে দুই মাসের সর্বোচ্চ ৪৪০ থেকে ৪৫০ ডলার আর থাইল্যান্ডে ৪৮০ ডলারে উঠেছে; ভারতে প্রায় এক দশকে প্রথমবার উৎপাদন কমার আশঙ্কা।

নিউজবাংলা ২৪২৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

ন্যানো ইউরিয়া উদ্ভাবনের পেটেন্ট পেলেন যবিপ্রবির অধ্যাপক জাভেদ, বিঘায় খরচ ২৩০ টাকা

পাঁচ বছর দুই মাস অপেক্ষার পর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যানোটেকনোলজি গবেষক অধ্যাপক মো. জাভেদ হোসেন খানের ন্যানো ইউরিয়াকে পেটেন্ট দিয়েছে বাংলাদেশ পেটেন্ট অফিস; তাঁর দাবি, স্প্রে করে প্রয়োগ করা এই সারে বিঘায় খরচ ৪,২০০ টাকা থেকে নেমে আসবে ২৩০ টাকায়।

সমকাল২৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)