সুন্দরবনে পাখি জরিপের প্রথম দিনেই মহাবিপন্ন প্যারাপাখির একটি ছানার দেখা পেয়েছেন একদল পাখি-পর্যবেক্ষক। সমকালে প্রকাশিত লেখায় দলটির এক পাখি বিশেষজ্ঞ, অভিযাত্রী ও আলোকচিত্রী জানিয়েছেন, এ বছর একাধিকবার সুন্দরবনে গেলেও এই প্রথম পাখিটির দেখা মিলল।
লেখকের তথ্যমতে, পুরো পৃথিবীতে এখন আনুমানিক ৫০-৬০টি প্যারাপাখি বেঁচে আছে, আর তাদের আশ্রয় কেবল বাংলাদেশের সুন্দরবন ও কম্বোডিয়ার কুলেন প্রম্পতেপ অভয়ারণ্য। সুন্দরবনে দেখা ছানাটি বেঁচে থাকলে প্রজাতিটির বিলুপ্তি কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে।
একসময় সুন্দরবনের উত্তরে মৃগামারি খাল থেকে দক্ষিণে কটকা পর্যন্ত অনেক খালেই প্যারাপাখির বসতি ছিল। বৈঠা-বাওয়া নৌকায় খালের গভীরে গেলে ধৈর্যশীল পাখি-দর্শক এদের কাদাপানিতে নামতে দেখতেন। মাত্র এক দশক আগেও দেশের কয়েকজন গবেষক সুন্দরবনে একাধিক বাসা পর্যবেক্ষণ করে গবেষণাপত্র লিখেছিলেন।
সুন্দরবনের জেলেরা দেখতে কিছুটা হাঁসের মতো বলে পাখিটিকে হাঁসপাখি বলতেন। শুধু প্যারাবনে, অর্থাৎ ম্যানগ্রোভে থাকে বলে এর নাম প্যারাপাখি। সাঁতারের জন্য আঙুলে পাখনা থাকায় ইংরেজি নাম ফিনফুট, আর মুখ কালো পালকে ঢাকা বলে এ প্রজাতিটি মাস্কড ফিনফুট। হাঁসের মতো আঙুল পর্দায় জোড়া না থাকায় এরা গাছের ডালেও স্বচ্ছন্দে চলতে পারে। পৃথিবীতে ফিনফুটের তিনটি প্রজাতির মধ্যে আফ্রিকান ফিনফুট ও দক্ষিণ আমেরিকার সানগ্রিবের সংখ্যা লাখের কোঠায়; বিপন্ন কেবল এশিয়ার এই প্রজাতিটি।
কেন এত দ্রুত সংখ্যা কমল, তার নিশ্চিত ব্যাখ্যা এখনো নেই। লেখকের মতে, পঞ্চাশ বছর আগেও পূর্ব, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নানা দেশের প্যারাবনে পাখিটি ছিল; উন্নয়নের নামে প্যারাবন ও প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস হওয়ায় সম্ভবত এদের প্রজনন গুরুতরভাবে ব্যাহত হয়েছে। বাসস্থান ছোট হওয়ার পাশাপাশি ব্যাঙ, কাঁকড়া, ঝিনুক, শামুক ও মাছের মতো খাবারও কমেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কতটা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
কারণ খুঁজে বের করার মতো যথেষ্ট সময়, দক্ষতা ও অর্থ দেশে নেই বলে লেখকের আশঙ্কা, গোলাপি-শির হাঁসের মতো প্যারাপাখিও হয়তো বিলুপ্ত প্রাণীর তালিকায় উঠে যাবে। এই দশকেই পাখিটি পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাবে কি না, তা এখন নির্ভর করছে বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়ার মানুষের আগ্রহ, আন্তরিকতা আর সংরক্ষণের দক্ষতার ওপর।
ছবি: Joseph Wolf / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: সমকাল




মন্তব্য
(০)