শখে বা বাণিজ্যিক খামারে হরিণ পালতে চাইলে ঢাকার মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকেই কেনা যায়। চিড়িয়াখানা উদ্বৃত্ত চিত্রা হরিণ বিক্রি করে, প্রতিটির দাম ৫০ হাজার টাকা। তবে একটি নয়, কিনতে হবে অন্তত এক জোড়া, একটি পুরুষ ও একটি মাদি।
চিড়িয়াখানার পরিচালক মো. শাহিনুর আলম জানান, সেখানে এখন ৩৫০টির মতো চিত্রা হরিণ আছে। মা হরিণ প্রতিবছর বাচ্চা দেয় বলে সংখ্যা বাড়ছেই, আর একই প্রজাতির এত প্রাণী রাখার জায়গাও নেই। চিড়িয়াখানার হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৪টি, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৩টি এবং চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত ১৫টি হরিণ বিক্রি হয়েছে।
হরিণ পালনের আইনি ভিত্তি বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ২০১৭ সালের হরিণ ও হাতি লালন-পালন বিধিমালা। কারও কাছে অনধিক ১০টি হরিণ থাকলে তিনি শৌখিন লালন-পালনকারী, ১০টির বেশি হলে তা খামার। খামারের জন্য বন অধিদপ্তরের লাইসেন্স লাগে, আর শৌখিন পালনকারীকেও প্রতিটি হরিণের জন্য পজেশন সনদ নিতে হয়।
বিধিমালা অনুযায়ী হরিণের শেড হতে হবে অন্তত ১০০ বর্গফুট ও ১০ ফুট উঁচু, তাতে দানাদার খাবার, খনিজ লবণ ও পানির আলাদা পাত্র থাকবে। প্রতিটি হরিণের জন্য কমপক্ষে ৫০০ বর্গফুট খোলা বিচরণের জায়গা এবং চারপাশে অন্তত ১০ ফুট উঁচু বেষ্টনী লাগবে। যেসব প্রাকৃতিক বনে হরিণ থাকে, সেখান থেকে অন্তত ৩০ কিলোমিটার দূরে খামার করতে হবে।
বন অধিদপ্তরের লিখিত অনুমতি ছাড়া হরিণ কেনা, বেচা, দান বা হস্তান্তর করা যায় না। হরিণ মারা গেলে বা বাচ্চা হলে বন অধিদপ্তরকে জানাতে হয়। মাংসের জন্য হরিণ বিক্রি বা খাওয়ার সুযোগ বিধিমালায় নেই; নিয়ম ভাঙলে হরিণ জব্দ এবং লাইসেন্স বাতিল হতে পারে।
কেনার প্রক্রিয়া জানিয়েছেন চিড়িয়াখানার কিউরেটর মো. হাবিবুর রহমান: আগে চিড়িয়াখানায় যোগাযোগ করে জানতে হবে বিক্রির হরিণ আছে কি না, তারপর বন অধিদপ্তরের অনুমতি নিতে হবে। ফরিদপুরের নগরকান্দার মুহাম্মদ গোলাম কাইয়ুম এভাবেই দুটি হরিণ কিনেছেন; আবেদনের পর বন কর্মকর্তারা তাঁর জায়গা পরিদর্শন করে অনুমতিপত্র দেন।
অনুমোদিত বাণিজ্যিক খামার থেকেও হরিণ কেনা যায়। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার শামসুদ্দিন প্রায় দেড় বছর আগে লাইসেন্স পেয়ে খামার করেছেন, এখন সেখানে ১০ থেকে ১২টি হরিণ। প্রতিটি হরিণ তিনি বন অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে বিক্রি করেন।
প্রতিবেদন: প্রদীপ সরকার, প্রথম আলো।
ছবি: Brian Gratwicke / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)