আগামী এক দশকে ভারতের ভুট্টা উৎপাদন ৭ কোটি ৫০ লাখ টনে তুলতে হবে, সঙ্গে হেক্টরপ্রতি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে দেড় গুণ। সোমবার হায়দরাবাদে প্রথম আন্তর্জাতিক ভুট্টা সম্মেলন ২০২৬-এর উদ্বোধনে এ কথা বলেন ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদের (আইসিএআর) মহাপরিচালক ও কৃষি গবেষণা ও শিক্ষা বিভাগের (ডেয়ার) সচিব ড. এম এল জাট (M. L. Jat), জানিয়েছে রুরাল ভয়েস।
জাট বলেন, গত দশকে উৎপাদনশীলতা অনেক বাড়ায় ভারতের ভুট্টা উৎপাদন এখন প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টন। পরের ধাপে যেতে লাগবে প্রযুক্তি, উন্নত ফসল ব্যবস্থাপনা আর সম্পদের দক্ষ ব্যবহার। "বদলে যাওয়া বিশ্বে খাদ্য, পশুখাদ্য, গোখাদ্য, জ্বালানি ও টেকসইতার জন্য ভুট্টা বিপ্লব" প্রতিপাদ্যে সম্মেলন চলছে ২ থেকে ৪ নভেম্বর, জেডি কনভেনশন সেন্টারে।
ভুট্টাকে এতদিন দেখা হতো চার "এফ" দিয়ে: খাদ্য, পশুখাদ্য, গোখাদ্য ও জ্বালানি। জাট এর সঙ্গে পঞ্চম "এফ" হিসেবে কৃষককে (ফার্মার) কেন্দ্রে রাখার প্রস্তাব দেন, যাতে গবেষণা ও সম্প্রসারণের ফল চাষির লাভে পৌঁছায়। ফসল ব্যবস্থাপনার ঘাটতিতে যে ফলন-ফারাক তৈরি হয় তা কমাতে সামগ্রিক পদ্ধতির কথা বলেন তিনি, আর তেলবীজ ও ডালের জমি না কমিয়ে বিভিন্ন মৌসুম ও কৃষি-পরিবেশ অঞ্চলে ভুট্টা ছড়ানোর আহ্বান জানান। সাশ্রয়ী মানসম্মত বীজ, বিশেষ করে সরকারি খাতের হাইব্রিড, আর শক্ত বীজব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার বলা হয়।
আইসিএআরের শস্যবিজ্ঞান বিভাগের উপমহাপরিচালক ড. ডি কে যাদব জানান, গত পাঁচ বছরে ৩২৯টি ভুট্টা হাইব্রিড উদ্ভাবিত হয়েছে। তিনি সর্বভারতীয় সমন্বিত ভুট্টা গবেষণা প্রকল্প জোরদার করা, বেশি ফলন, পুষ্টিমান এবং রোগ-পোকা ও আবহাওয়ার চাপ সহনশীলতার জন্য প্রজনন, যান্ত্রিকীকরণ ও সরকারি হাইব্রিড বীজ উৎপাদন বাড়ানোর কথা বলেন।
আইসিএআরের সাবেক মহাপরিচালক ড. আর এস পারোদা উন্নত প্রজনন কৌশল, জার্মপ্লাজম সংরক্ষণ ও ব্যবহার, শক্ত মূল্যশৃঙ্খল আর খাদ্য ও পশুখাদ্যের নিরাপত্তায় আফলাটক্সিন নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেন। মেইজ টেকনোলজিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার সভাপতি ড. এইচ এস জাট গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, নীতিনির্ধারক ও শিল্পের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চান, আর সিমিটের ভুট্টাবিজ্ঞানী ড. এস ভাসাল কৃষকের প্রয়োজন মেটানো সহজ ও কম খরচের প্রজননের পক্ষে বলেন।
বীজ সহজলভ্য করা এবং ইথানলসহ ভুট্টার মূল্যশৃঙ্খল গড়তে বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও শিল্পের প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে একসঙ্গে কাজ করছেন।
ছবি: Thamizhpparithi Maari / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Rural Voice





মন্তব্য
(০)