ভারতে ২০২৬-২৭ মৌসুমের আখমাড়াই এবার গত বছরের চেয়ে অনেক আগে জমে উঠেছে। ন্যাশনাল ফেডারেশন অব কোঅপারেটিভ সুগার ফ্যাক্টরিজের (এনএফসিএসএফ) রাজ্যভিত্তিক হিসাব উদ্ধৃত করে রুরাল ভয়েস জানিয়েছে, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১৫২টি কল ১০৫.৪৩ লাখ টন আখ মাড়াই করে ৮.৪৫ লাখ টন চিনি উৎপাদন করেছে। গত বছর একই দিনে চালু ছিল মাত্র ৩১টি কল; মাড়াই হয়েছিল ১১.৮৪ লাখ টন আখ, চিনি হয়েছিল ১ লাখ টন।
এই আগাম গতির বড় অংশ মহারাষ্ট্রের। দেশে চিনির জোগান বাড়াতে সরকার কলগুলোকে আগে মাড়াই শুরু করতে বলেছিল; ৩১ অক্টোবরের মধ্যে রাজ্যটির ১২৩টি কল চালু হয়ে ৯১.১৪ লাখ টন আখ থেকে ৭.২০ লাখ টন চিনি তৈরি করেছে। তবে সেখানে গড় আহরণের হার, অর্থাৎ আখ থেকে চিনি পাওয়ার অনুপাত, মাত্র ৭.৯০ শতাংশ, যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ কম।
দ্বিতীয় স্থানে কর্ণাটক: সাতটি কল ৮.৩৩ লাখ টন আখ মাড়াই করে ৮০ হাজার টন চিনি পেয়েছে, আহরণের হার ৯.৬০ শতাংশ, যা রাজ্যগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। তামিলনাড়ুর সাতটি কল ৪.৭১ লাখ টন আখ থেকে ৪০ হাজার টন চিনি পেয়েছে (৮.৫০ শতাংশ), আর গুজরাটের ১০টি কল ১.২৫ লাখ টন আখ মাড়াই করে ৫ হাজার টন চিনি তৈরি করেছে।
সব জায়গায় শুরুটা অবশ্য মসৃণ হয়নি। মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকে আখচাষিরা আগাম মাড়াইয়ের বিরোধিতা করে আখের ভালো দাম ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। উত্তর প্রদেশে অক্টোবরের বৃষ্টিতে আখ কাটা ও সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে; ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে চালু ছিল মাত্র তিনটি কল, গত বছর ছিল ১০টি। ১ নভেম্বর থেকে আরও কয়েকটি কল মাড়াই শুরু করেছে।
সারা দেশে গড় আহরণের হার ৮.০১ শতাংশ, গত বছরের ৮.৪৪ শতাংশের চেয়ে ০.৪৩ শতাংশীয় বিন্দু কম। চাষির কাছে এর অর্থ আছে: ২০২৬-২৭ মৌসুমে আখের ন্যায্য ও লাভজনক দাম (এফআরপি) কুইন্টালপ্রতি ৩৬৫ রুপি, ভিত্তি আহরণ হার ১০.২৫ শতাংশ ধরে। প্রতি ০.১ বিন্দু বেশি বা কম হলে দাম কুইন্টালে ৩.৫৬ রুপি বাড়ে বা কমে। তবে ৯.৫ শতাংশের নিচে আহরণের কলে আর কাটা হবে না; সেসব কলের চাষিরা কুইন্টালে অন্তত ৩৩৮.৩০ রুপি পাবেন।
দেশে চিনির জোগান ও দাম বাড়া নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই মৌসুম শুরু হলো। সরকার ব্যবসায়ী ও বড় ক্রেতাদের মজুতে সীমা বেঁধে দিয়েছে, আর ট্যারিফ রেট কোটায় ১০ লাখ টন কাঁচা চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি দিয়েছে; ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড সেই আমদানির সময়সীমা ৩১ অক্টোবর থেকে বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর করেছে।
ছবি: Shakher59 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Rural Voice





মন্তব্য
(০)